মেইন ম্যেনু

সাকিব আল হাসানের মেয়ে ও অসভ্য কিছু লোকের কমেন্ট

আমাদের সাকিব আল হাসানের মেয়ে হয়েছে সেটা মনে হয়ে কারো আর অজানা নেই। তো, কিছুক্ষণ আগে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন তাদের ফেসবুক পেজে খবর করেছে

– সাকিব নিজে ক্রিকেটার হলেও কণ্যা’কে বানাতে চান টেনিস তারকা কিংবা গলফার। বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরেন সাকিব।

তো এই খবরের নিচে লোকজন যে কমেন্ট করেছে সেটা তুলে দেয়ার রুচি আমার নেই। কিন্তু এর পরও দিতে হচ্ছে স্রেফ এইটা বুঝানোর যে আমরা আসলে ঠিক কোন পথে আছি। একজন কমেন্ট করেছে

-বেশ্যা বানালে ভালো রেজাল্ট পাবে। কারন বাপের অনেক নামডাক আছে। সবাই আর কিছু না হলেও বলবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের মেয়েকে …

আরেকজন লিখেছে
-টেনিস তারকা বানাবা, এর পর প্যান্টি-ব্রা পড়ে খেলবে আর অন্যরা তাকিয়ে ফিলিংস নিবে।

অন্য আরেকজন লিখেছে
-যদি বলতেন হাফেজ বানাবো, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি বানাবো; তা না বেশ্যা মাগি টেনিস তারকা বানাবেন!

আরেকজন
– শুক্রবারের মতো একটা পবিত্র দিনে এমন একটা অপবিত্র কথা বলে সাকিব তুমি অন্যায় করেছো। মাফ চেয়ে নেও সময় থাকতে!

আমি খুব ভদ্র গোছের কয়েকটা কমেন্ট তুলে দিয়েছি। এর চাইতেও বাজে কমেন্ট এরা করেছে। আপনারা সব সময় বলেন ধর্মীয় গোঁড়ামি কিংবা উগ্র মানসিকতার মানুষ বাংলাদেশে তেমন নেই; যা আছে সে গুলো হচ্ছে রাজনৈতিক কারনে। এখন আপনারাই বলেন সাকিব আল হাসান কি রাজনীতি করে? আমি তো যতদূর জানি বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সব দল-মতের মানুষ পছন্দ করে। আর সাকিব তো আমাদের একজনই। তাহলে তাকে কেন লোকজন এই সব বলছে? আপনারা বুঝতেও পারছেন না দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা একটা প্রজন্মকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে।

আফগানিস্তান মাত্র চার দশক আগেও একটি চমৎকার প্রগতিশীল রাষ্ট্র ছিল। সেখনে ছেলে-মেয়েরা একসাথে স্কুলে যেত, যে যার ধর্ম নিজেদের মতো করে পালন করতো; কিন্তু কোথাও সেই অর্থে কোন গোঁড়ামি ছিল না। আর আজ সেই আফগানিস্তানের কি অবস্থা সেটা নিশ্চয় বলে বুঝানোর দরকার নেই। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সামাজিক মূল্যবোধকে যদি দ্রুত ঢেলে না সাজাই, তাহলে আমাদের পরিণতি কি হতে যাচ্ছে, সেটা আসলে আফগানিস্তানের দিকে তাকালেই খুব করে বুঝা সম্ভব!

আমিনুল ইসলামের ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত