মেইন ম্যেনু

সাগরের মাঝখানে চুম্বকের দ্বীপ!

যে দিকে চোখ যায়, পানি আর পানি। নীল সাগরের জলরাশি ছাড়া কোন কিছুই যেখানে চোখে পড়ার মতো নেই, সেখানে বুক চিরে চুম্বকের ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে একটি দ্বীপ। যার স্থানীয় নাম ‘জাবুকা দ্বীপ’ এর বাংলা অর্থ আপেল। ৯৭ মিটার লম্বা এই আগ্নেয়দ্বীপটির অবস্থান ক্রোয়েশিয়ার আড্রিয়াটিক সাগরে। এই দ্বীপে কিন্তু মানুষ বাস করে না। তবে জেলেরা ঝুঁকি নিয়ে মাছ শিকারে আসে।

এ দ্বীপের একটি বিশেষত্ব এর চুম্বকত্ব, গোটা দ্বীপকেই আস্ত একটা চুম্বক বললে বাড়িয়ে বলা হবে না খুব একটা। এখানে প্রচুর পরিমাণ লোহার অক্সাইড ম্যাগনেটাইট পাওয়া যায়। অক্সাইড বলতে বোঝায় অক্সিজেনের উপস্থিতি, আর লোহা ও অক্সিজেন মিলে যে যৌগ তৈরি করে, তার মধ্যে চুম্বকীয় গুণ দেখা যায়। এ কারণে কম্পাসের কাঁটা এই দ্বীপের কাছাকাছি এলেই উল্টাপাল্টা আচরণ শুরু করে। ফলাফল হিসেবে জাহাজের নাবিকরা দিক নির্ণয়ে বিভ্রান্ত হয়। অঘটন এড়াতে তাই এই দ্বীপের অনেক দূর দিয়ে সবাই নৌকা বা জাহাজ চালায়। কেননা কম্পাস কাজ না করলে পথ হারানোর প্রবল আশঙ্কা, আর মাঝসাগরে পথ হারাতে চায় কে!

দ্বীপটির আশে পাশে যাওয়ার পথও খুবই দুর্গম, গভীর পানির মধ্যে একা দাঁড়িয়ে থাকা দ্বীপটির চারপাশে বাতাসের কারণে সাগর খুব উত্তাল। দ্বীপে এ কারণে নৌকা ভেড়ানো মুশকিল। তা ছাড়া নৌকা রাখার জায়গা নেই ভালো। বাতাস আর ঢেউয়ের টানে চলে যেতে পারে অন্য কোথাও। এদিকে দ্বীপের কিনারের পাথরগুলোতে বাঁধাও কঠিন। পানি এখানে ২০০ মিটার গভীর, নোঙর করাও সম্ভব নয়।