মেইন ম্যেনু

সাগরে ভেসে বেড়াবে আস্ত দ্বীপ!

নৌকা নিয়ে বিশ্বভ্রমনের অনেক গল্পই আমাদের জানা। সেই ভাস্কো দা গামার আমলের আগে থেকে শুরু করে বর্তমান সময়েও নৌকা নিয়ে রচিত হয়েছে নানান উপাখ্যান-গল্প। কিন্তু এবার মনে হয় সময় হয়ে গেছে একটু নতুনত্বের। কারণ অস্ট্রিয়ার জাহাজ নির্মাতা কোম্পানি মিগালু সম্প্রতি বিলাসবহুল এক ইয়ট তৈরি করেছে, যা পুরোটাই দ্বীপের আদলে। ককোমো আইল্যান্ড নামের এই জাহাজটিই হলো এযাবৎ পৃথিবীতে নির্মিত প্রথম ভাসন্ত ইয়ট দ্বীপ।

ককোমো দ্বীপে ভোক্তাদের জন্য সম্ভ্যাব্য সকল সুযোগ সুবিধা রাখা হয়েছে। স্পা, জিম, বিউটি স্যালুন, সুইমিং পুল, বাগান থেকে শুরু করে হাসপাতাল পর্যন্ত রয়েছে এই দ্বীপে। সমুদ্রের পানি থেকে প্রায় ৮০ মিটার উচ্চতায় ইয়টটির পেন্টহাউজ নির্মান করা হয়েছে, যাতে সমুদ্রের বিশাল ঢেউ কোনো ক্ষতি করতে না পারে ইয়টের বাসিন্দাদের। পেন্টহাউজের ঠিক পেছনেই আছে একটি হট টাব, যেখানে চাইলেই সমুদ্রের বুকে সূর্য ডোবা দেখতে দেখতে উষ্ণ পানিতে শরীর এলিয়ে থাকা যাবে।

ধারণা করা হচ্ছে, হলিউডের বিখ্যাত বণ্ড সিরিজের আগামী চলচ্চিত্রে এই দ্বীপটিকে দেখা যেতে পারে। তবে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে ককোমো দ্বীপ তৈরিতে কত ব্যয় হয়েছে, সেসম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি। তবে মিগালুর পক্ষ থেকে এটা জানানো হয়েছে যে, আগামীতে তারা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য এরকম ছোটো ভাসন্ত দ্বীপ তৈরি করবেন, যদিও সেটা চাহিদার উপর নির্ভর করবে। ওই ইয়টগুলোর দাম কত হতে পারে, সেবিষয়ে স্পষ্ট কিছু না বললেও, ভোক্তার চাহিদার উপর ভিত্তি করেই এর দাম নির্ধারণ করা হতে পারে বলে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই মিগালুকে কোনো জাহাজের অর্ডার দেয়নি।

পুরো ইয়টটি চালাতে ব্যবহার করা হয়েছে মোট আটটি শক্তিশালী ইঞ্জিন। ঘণ্টায় নয় মাইল যেতে সক্ষম দ্বীপটির ভারসাম্য ঠিক রাখতে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও এতে রাখা হয়েছে একটি হেলিপ্যাড, যেখানে সহজেই একটি হেলিকপ্টার উঠানামা করতে পারবে। শুরুর দিকে মিগুলু এখনও ককোমা দ্বীপটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভাড়া দেয়া হবে কিনা সেবিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেনি, তবে আশা করা যাচ্ছে বিশাল সব করপোরেট কোম্পানি হতে পারে এই ভাসন্ত দ্বীপটির আপাত খদ্দের।

2015_10_03_16_43_31_uJcXU6bYDbVQv9ooAMa1PzC5tEcKmW_original