মেইন ম্যেনু

সাজা খাটলেও আপিল করবেন ডা. জাফরুল্লাহ

আদালত অবমাননার দায়ে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আসামির কাঠগড়ায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার সাজার বিরুদ্ধে আপিল করবেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। যদিও তিনি ইতিমধ্যেই এক ঘণ্টার সাজা ভোগ করেছেন।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ আদালত অবমাননার দায়ে ডা. জাফরুল্লাহকে এক ঘণ্টার কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

জরিমানার টাকা ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বরাবর আগামী সাতদিনের মধ্যে পরিশোধ করতে রায়ে বলা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে তাকে।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে পর প্রথমে ডা. জাফরুল্লাহ কাঠগড়ায় উঠে সাজা ভোগ করতে অস্বীকৃতি জানান ও আদালতকে সাজা স্থগিত করতে বলেন।

বিচারপতিদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ আদেশ দিয়েছেন।’

অবশেষে সঙ্গীদের অনুরোধ ও জোরাজুরিতে দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিট থেকে ১টা ৪৯ মিনিট পর্যন্ত কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দণ্ড ভোগ করেন জাফরুল্লাহ।

ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হয়ে ডা. জাফরুল্লাহ অপেক্ষামাণ সাংবাদিকদের জানান, তিনি জরিমানার টাকা পরিশোধ করবেন না। ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘উচ্চ আদালতে আমার বিরুদ্ধে দেওয়া রায়টা যদি ভুল হয় তাহলে তারা (তিন বিচারপতি) কী আমার এই জীবনের সময়টা ফিরিয়ে দিতে পারবেন? তাহলে কী তিনজন বিচারপতি আমার এই জায়গায় এসে বসে থাকবেন এক ঘণ্টা?’

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আজকের আদালত অবমাননার রায়টা তিনজন বিচারকের মানসিক অসুস্থতার প্রমাণ। এখানে বিচারপতিরা সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না। যেখানে তারা সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না, সেখানে ন্যায়বিচার হয় না। যখন তারা সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না, তখন যুক্তি থাকে না বলেই আইনের আড়ালে আত্মগোপন করেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আদালত অবমাননার তিনটি বিষয় আছে। এগুলো হলো- আদালতের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা, বিচারের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা, আদালতের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করা। তিনটির একটি বিষয় প্রমাণ করতে হয়। বিচারপতিরা আদেশের কোথাও সুস্পষ্টভাবে বলেননি, কোন জায়গাতে আমরা বা বিশেষ করে আমি এই তিনটি বিষয় ভঙ্গ করেছি। তাদের যুক্তি নেই বলেই তিন বিচারপতি উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তারা রাগের বশে এ রায় দিয়েছেন। পৃথিবীর মধ্যে এটা অভদ্রজনিত ব্যবহার। যখন বিচারক রায় পড়েন তখন সকল অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দাঁড় করিয়ে রাখা অর্থহীন। এটা মধ্যযুগের ঘটনা। কিন্তু তারা দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। তারপর বলেছেন আমার বয়সের কথা। কিন্তু বয়সের সম্মান আমি তাদের কাছে কামনা করিনি।’

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘যুক্তি না থাকলে হঠাৎ একজনকে খুঁজে বের করা হয়। আমি বিচারপতিদের বলেছি, আপনাদের এই আদেশ স্থগিত রাখেন, যেন উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারি। তারা সেই সুযোগ না দিয়ে দ্রুত আদালত ত্যাগ করেছেন। এখন বিষয়টা আপনারা বিবেচনা করেন।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো জরিমানা দেব না। আপিল করব। আপিলে যা হয় তা পরে দেখা যাবে। আমি কোথাও ভুল করিনি। সমালোচনা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। গণতান্ত্রিক দেশে কথা বলতে পারবো না? এই দেশের জন্য আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। সেই দেশের ব্যাপারে কোনো বক্তব্যও রাখতে পারব না, সেটিতো হয় না।’

প্রসঙ্গত,ব্রিটিশ নাগরিক ও সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানকে ট্রাইব্যুনালের জরিমানার রায়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দেওয়ায় আদালত অবমাননার দায়ে ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরীকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে।