মেইন ম্যেনু

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় এক অধ্যক্ষকে মারপিটের হুমকি

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় এক কলেজ অধ্যক্ষকে কতিপয় শিক্ষার্থীসহ বহিরাগতরা মারপিটের হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অধ্যক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। উপজেলার ছলিমপুর হাজী নাছির উদ্দীন কলেজে এ ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার শিকার কলারোয়ার ছলিমপুর হাজী নাছির উদ্দীন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম তার সেল ফোনে (০১৭১৭-৮৬৪০৯৯) সাংবাদিকদের জানান, বুধবার কলেজ চলাকালীন সময়ে কলেজের ছাত্র রুপম, রায়হান, অনিক, হারুন, শুভ (সুবল)সহ ১০/১২ জন তাঁর অফিসকক্ষে ঢুকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে চাপ প্রয়োগ করে। তিনি বিষয়টি জানতে চাইলে তারা বলে এই এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ইটভাটার বিরুদ্ধে কলেজের পক্ষ থেকে একটি আপত্তিপত্র দিতে হবে। তাই স্বাক্ষর না করলে আপনাকে বাড়ি যেতে দেব না। আপনার হাত পা গুড়িয়ে দিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হবে। তখন তিনি বলেন, আমিতো এভাবে স্বাক্ষর দিতে পারি না, আমার কলেজের গভর্নিং বডির মিটিংয়ে বিষয়টি তোলা হবে সেখানে সবাই মিলে যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটিই আমার করতে হবে। আর ইটভাটাতো আমার কলেজের কোন ক্ষতি করছে না, তাহলে আমি কেন অভিযোগ করবো। তখন তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বাড়ি যাওয়ার পথে মারপিট করবে বলে শাসিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়।

অধ্যক্ষ আলিমএসময় তাদের হাতে হাতুড়ি ও লাঠি-সোটা ছিলো বলে তিনি জানান। তখন আমি নিরুপায় হয়ে বিষয়টি খোরদো পুলিশ ফাঁড়িকে জানালে সাথে সাথে তারা ঘটনাস্থলে এসে রাস্তা থেকে তাদের হটিয়ে দেয়।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি তিনি কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার আব্দুর রউফকে অবহিত করেছেন। এছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত এক ছাত্রের পিতা বিষয়টি শুনে তার ছেলেসহ জড়িতদের নিষেধ করবেন বলে অধ্যক্ষকে আশ্বস্ত করে ঘটনাটি কোথাও না বলার জন্য বলেন।

এ ব্যাপারে কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার আব্দুর রউফ তার সেল ফোনে (০১৭৮১-৬৪৮৭৬৪) জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তিনি বলেন, ইটভাটার বিরুদ্ধে তারা কেন আপত্তি জানাবেন, যদি কারও অসুবিধা হয় তারা অভিযোগ করুক। তবে অধ্যক্ষকে মারপিটের হুমকিদাতাদের কোন ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে, অধ্যক্ষকে হুমকি দেয়ার ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন। সেই সাথে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে খোরদো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই তরিকুল ইসলাম এর সাথে তার সেল ফোনে (০১৭১২-৪৬৪৪৩৯) যোগাযোগ করলে তিনি জানান, সে সময় আমি বাইরে থাকলেও বিষয়টি জানার সাথে সাথে আমি সেখানে ফোর্স পাঠিয়ে রাস্তা থেকে সংঘবদ্ধ ওই হুমকিদাতাদের হটিয়ে দেই। তিনি আরও জানান, আমি এর পরপরই কলেজে উপস্থিত হই এবং অধ্যক্ষ’র সাথে কথা বলি।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষকে সব ধরণের সহযোগিতা দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

তবে এ ব্যাপারে থানায় এখনও কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।