মেইন ম্যেনু

সাতক্ষীরায় মারাত্মক ঝুঁকিতে ২০ কি.মি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ

মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে জেলার অন্তত ২০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেঁড়ীবাধ। গত কয়েকদিনের বর্ষা ও জেয়ারের পানির চাপে বাঁধের কিছু কিছু স্থানে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। শ্যামনগর ও আশাশুনিরে খোলপেটুয়া নদীর কিছু কিছু অংশে বাধ চিকন হয়ে গেছে। নদীর প্রবল স্রোত আছড়ে পড়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানায়, পাওবো ১ ও ২ এর অধিনে অন্তত ২০ কিলোমিটার মারাত্মক ঝুঁকি ও অন্তত ১০০ কিলোমিটার রয়েছে আছে। দ্রুত বাধগুলো মেরামত করতে না পারলে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, পাওবো-১ এ অধিনে ৪টি নদীতে মোট ৩৩৮ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ আছে। এর মধ্যে পোল্ডার-৩ এ দেবহাটা ও কালিগঞ্জে ইছামতিতে ৬৫ কিলোমিটার, সদর উপজেলার পোল্ডার-১ এ ইছামতি নদীর অংশে ৯৫ কিলোমিটার, শ্যামনগরে পোল্ডার-১৫ এ খোলপেটুয়া ও যমুনা নদীতে ১৫ কিলোমিটার এবং কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর অংশের পোল্ডার-৫ এ কালিন্দি ও খোলপেটুয়া নদীর অংশে ১৬৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এ সব বাঁধের মধ্যে খোলপেটুয়া, কালিন্দি ও ইছামতির নদীর অন্তত ৩০ কিলোমিটার বন্য নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। আর ৭ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে।

পাওবো সূত্র আরো জানায়, পাওবো-২ এর অধিনে ৩০৩ দশমিক ২২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ রয়েছে। এ মধ্যে সদর ও আশাশুনির পোল্ডার-২ এ বেতনা ও খোলপেটুয়া নদীর অংশে ৬২ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার, পোল্ডার-৪ এ ৮০ কিলোমিটার, পোল্ডার ৬-৮ ও ৬-৮ সম্প্রসারণে ৬৬ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার, পোল্ডার-৭/১ এ ৩৪ দশমিক ২১ কিলোমিটার এবং পোল্ডার-৭/২ এ ৫৯ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এ সব বেড়িবাঁধের মধ্যে অন্তত ৭০ কিলোমিটার রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। পাওবো-২ এর অধিনে ১৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। আশাশুনির শ্রীউলা গ্রামের আব্দুল আজিজ, আনিছুর রহমান আনিস জানায়, প্রতাপনগর ইউনিয়নের উপকূল রক্ষা বাধের অন্তত ২ কিলোমিটার জুড়ে ভয়াবহ ফাটল শুরু হয়েছে। নদীর পানির তীব্র স্রোতে বেড়িবাঁধ ভাঙতে শুরু করেছে। তারা আরো জানায়, এলাকার ঘোলা, ত্রিমোহিনীসহ বিভিন্ন এলাকার বাঁধগুলো সরু হয়ে যাচ্ছে। সামনে বর্ষা মৌসুম, দমকা হাওয়া ও পানির তীব্র স্রোত তখন আরো বেশি থাকবে। ফলে এখনই সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহন না করলে যে কোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে অবিরাম বর্ষা, নদীর পানির প্রবল ¯স্রোতে বাঁধগুলো ক্রমশ দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে কিছু কিছু স্থানে বাঁধের নিচে চোং বসিয়ে মৎস্য ঘেরে লোনা পানি উত্তোলন করায় এ অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে।

শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানায়, ইউনিয়নের পোড়াকাটলা নামক স্থানে ব্যপক ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। নদীর বিভিন্ন অংশে আরো এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।

তিনি আরো জানান, ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে বেড়িবাঁধ সরু হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানির প্রবল চাপে ও বর্ষায় বাঁধগুলো অবস্থা অনেক শোচনীয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, সম্প্রতি বোর্ডের মহাপরিচালক বরারব বাঁধের অবস্থার বিবরণ দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হামিদ জানায়, আমার আওতায় ৭ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। তবে এর মধ্যে ৫০০ মিটার ভয়াবহ ঝুঁকিতে আছে। দ্রুত সেগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ জন্য বোর্ডকে চিঠি দিয়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সংস্কারের কাজ করা হবে। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানান, পাওবো-২ এর অধিনে অর্ধেক বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাধ ঝুঁকিতে আছে। বেড়িবাধের মধ্যে ১৩ কিলোমিটার মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে। তিনি আরো জানান, বর্ষা ও নদীর প্রবাল চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে তিনি উর্দ্ধতন কর্তপক্ষকে অবহিত করেছেন বলে জানান।