মেইন ম্যেনু

সাতক্ষীরা কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অর্ধ বার্ষিক পারীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ!

সাতক্ষীরা কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অর্ধ বার্ষিক পারীক্ষায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও কোচিং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। গত ১ জুন থেকে বিদ্যালয়ের অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়। অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা ৭ম শ্রেণির ‘গ’ বিভাগের গণিত পরীক্ষায় ৭২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শুধুমাত্র রোকসানা (৬০ নম্বরের পরীক্ষায় ২৩ নম্বর পেয়ে) পাশ করেছে। বাকি সকল শিক্ষার্থী ফেল করায় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকদের অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা করছে সচেতন মহল।

বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ‘গ’ বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যার রোল নং- ১ শাহরিন খাতুন, রোল নং- ২ অলিউর রহমান নাঈম, রোল নং- ৪ গাজী সোহাগসহ ইব্রহিম খলিল, মিনা খাতুন বিথি, সাহারা আক্তারসহ সকল শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত পাঠ দানের বাইরে ‘প্রশ্নপত্র’ হওয়ায় আমরা সঠিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারিনি। বিদ্যালয়ের স্যারদের তৈরি প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা না নিয়ে প্রধান শিক্ষক অন্য প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নেন। ফলে সিলেবাসের মধ্য থেকে বিদ্যালয়ের ক্লাসে করানো ১৫০টি অংকের মধ্যে ১টি অংকও প্রশ্নপত্রে আসেনি।

এছাড়া আমরা যে মার্কের উত্তর দিয়েছি সে অনুযায়ী আমরা নাম্বার পায়নি। আমরা অনেকই খাতা দেখতে চেয়েছি কিন্তু আমাদেরকে খাতা দেখানো হয়নি। অন্যান্য শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলে, আমাদের বিদ্যালয়ের টয়লেটগুলো অত্যান্ত নোংড়া। ক্লাসরুমে ফ্যান ঠিকমত চলেনা, জ্বলেনা লাইটও। বর্তমানে আমাদের বিদ্যালয়টি বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত।

শিক্ষার্থীরা আরো জানায়, বিদ্যালয়ে আমাদের কোচিং করার জন্য প্রতি মাসে বিষয় প্রতি ২০০ টাকা দিয়ে শিক্ষা গ্রহন করতে হয়। যে সকল দরিদ্র শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে কোচিং করতে পারেনা। তদেরকে হুমকি দিয়ে গণিত শিক্ষক রুস্তম আলী বলেন, ‘কোচিং না করলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেব। লাটাই আমার হাতে পরীক্ষা হোক ঠেলা বুঝবি।’ এ ধরনের ফলাফলের কারণে শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে ও ব্যহত হচ্ছে পাঠদান।

সপ্তম শ্রেণি’র এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সালমা খাতুন জানান, ‘আমার ছেলে অলিউর রহমান নাঈম এই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। ক্লাসে তার রোল ২। এই ছেলে কিভাবে গনিতে ২ পায়। আমি শিক্ষকদের কাছে তার গনিতের খাতা দেখতে চাইলেও তারা খাতা দেখাতে নারাজ। বিষয়টি তদন্তপূর্বক সুষ্ঠু সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তাহের বলেন, সপ্তম শ্রেণির গনিত পরীক্ষা প্রথম সৃজনশীল হওয়ায় একটু সমস্যা হয়েছে সেটি আমরা বিবেচনা করে দেখবো। তবে ক ও খ বিভাগে কোন সমস্যা হয়নি। এছাড়া কোচিং বাণিজ্য সম্পর্কে কেউ কোন অভিযোগ করলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।