মেইন ম্যেনু

প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা

সাতক্ষীরা ব্রাক ব্যাংকে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের টাকা জমা দিতে ভোগান্তি

ব্রাক ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখার কর্মকর্তাদের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, স্বজনপ্রীতি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের ফলে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এর টাকা জমা দিতে আসা গ্রাহকরা ভোগান্তির স্বিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া দীর্ঘ সময় লাইনে দাড়িয়েও টাকা জমা না দিয়ে ফিরে যাচ্ছে গ্রাহকরা। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দালাল ও সিকিউরিটি গার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গতকাল রোববার দুপুরে ব্রাক ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখায় মটর সাইকেলের রেজিষ্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স এর টাকা জমা দেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে থেকে টাকা জমা দিতে পারছেনা এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিকরা দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার নিজস্ব প্রতিনিধি আব্দুর রহিম, দৈনিক দক্ষিণের মশালের নিজস্ব প্রতিবেদক মাহফিজুল ইসলাম আককাজ ও দৈনিক কাফেলার স্টাফ রিপোর্টার আব্দুর রহমান) ছবি তুলতে গেলে ব্যাংক ম্যানেজার শেখ জহির আহমেদ সাংবাদিকদের লাঞ্চিত করেন। এসময় তিনি বলেন, ব্যাংকের ভিতরে ছবি তুলতে গেলে অনুমতি নিতে হবে। অযথা পত্রিকায় লিখে আমাদের কোন ক্ষতি হয়না। ব্যাংকের ভিতর থেকে বেরিয়ে যান। পত্রিকায় লিখে আমার কিছুই করতে পারবেন না। পরবর্তীতে এ ব্যাপারে বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে পত্রিকায় নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করা হয়।
সম্প্রতি গত ২ নভেম্বর দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার নিজস্ব প্রতিনিধি মোঃ আব্দুর রহিম তার মটর সাইকেলের রেজিষ্ট্রেশনের টাকা জমা দিতে গিয়ে নানা বিড়াম্বনা ও হয়রাণী স্বিকার হয়। প্রথমে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে টাকা জমা দেওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কম্পিউটারে পুরণকৃত যে মানি রিসিভ প্রদান করে তাতে মটর সাইকেলের ইঞ্জিন নং ও চেসিস নাম্বার ভুল থাকে। পরবর্তীতে সেটি ব্যাংক ম্যানেজার শেখ জহির আহমেদ কে জানালে তিনি প্রথমে নিজেদের দোষ স্বিকার না করে ৮০০ টাকা দিয়ে আবার আবেদন করার কথা বলেন। পরে ব্যাংকের চালান ও অন্যান্য কাগজ পত্রাদি দেখে ১ ঘন্টা পরে সংশোধন করে দেওয়া হবে বলে জানান। কিন্তু ঘন্টার পর ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও সেটি ঠিক করতে আবারও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। এভাবেই ভোগান্তি ও বিড়ম্বনার স্বিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। শুধু হয়রাণী-ই সিমাবদ্ধ নয়! ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভুলে অতিরিক্ত ৮০০ টাকা দিতে হচ্ছে মটর সাইকেলের টাকা জমা দিতে আসা গ্রাহকদের। এছাড়া প্রতিনিয়ত গ্রাহকরা ব্যাংক ম্যানেজার শেখ জহির আহমেদ’র দূর্ব্যবহার অতিষ্ঠ হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ‘সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনের টাকা জমা দেওয়া নিয়ে দালালির দায়ে গত (২৬ আগস্ট) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিষ্ণুপদ পাল ও আবু সাঈদ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে হযরত আলী ও খলিলুর রহমান নামে দুই ব্যক্তিকে তিন মাসের কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাজাপ্রাপ্ত খলিলুর রহমান শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম সেকেন্দার আলী। আরেক সাজাপ্রাপ্ত হযরত আলী সুলতানপুর ঝিলপাড়ার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আনোয়ার আলী। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাইদ জানান, ব্র্যাক ব্যাংক জেলা শাখায় বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সাতক্ষীরা অফিসের আওতাধীন মোটরসাইকেল চালকরা রেজিস্ট্রেশনের টাকা জমা দিতে এসে দালাল ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় দুইজনকে আটক করে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে।’
এব্যাপারে বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) তানভীর আহমেদ বলেন, ব্রাক ব্যাংকে গ্রাহকদের সাথে দুর্ব্যবহারের কথা আগেও শুনেছি। আমি ব্যাংক ম্যানেজার জহির আহমেদ সাহেবের কথা বলবো।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ.এফ.এম এহতেশামূল হক বলেন, ‘আমরা সকলে জনগণের জন্য কাজ করি। জনগণের হয়রাণী করার সাথে সম্পৃক্ত যারা আছে। তাদের সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এক্ষেত্রে কোন আপোস নেই। আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।
এব্যাপারে সচেতন মহল অবিলম্বে ব্রাক ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখার ব্যাংক ম্যানেজার শেখ জহির আহমেদ ও কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তাদের অপসারণ ও শাস্তির দাবী জানান।