মেইন ম্যেনু

সাত প্রেমিকাকে খুশি রাখতেই তিনি চুরি করতেন

পুলিশের খাতায় তাঁর নাম ছিল ‘চোরদের শিরোমণি’ বা ‘সুপার চোর’। এই নামেই তাঁকে চিনত মহারাষ্ট্রের মানুষ। সুকৌশলে প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ চুরি-ডাকাতি, আর এটিএম কার্ড জালিয়াতিতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে মহারাষ্ট্রের বুলন্দ জেলা থেকে সেই ‘চোরদের শিরোমণি’ ওম প্রকাশ রঙ্গনাথ খাণ্ডাভেকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। গ্রেপ্তারের অভিযুক্তকে তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। আর রিমান্ডে ২৬ বছর বয়সী ওম যা বললেন, তাতে পুলিশের চোখ চড়কগাছ। সাতজন প্রেমিকাকে খুশি রাখতেই নাকি চুরি-ডাকাতি আর জালিয়াতি করতেন তিনি!

এদিকে পুলিশের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ওম প্রকাশের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল। শুধু মহারাষ্ট্রই নয়, পাশের রাজ্য ছত্তিশগড়‚ এমনকি মধ্যপ্রদেশেও চুরি-ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়েছিল তাঁর নাম। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করেছিল, বিলাসবহুল জীবন কাটানোর জন্যই এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ওম। ওমের নিজের আছে একটি অত্যাধুনিক মডেলের গাড়ি, ১৭টি দামি মোবাইল ফোন‚ বিলাসবহুল হোটেলে দিন কাটানো-এ সবই ছিল তাঁর বিলাসিতার খণ্ডচিত্র।

গত জানুয়ারি মাসে বুন্দেলখণ্ডের একটি সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনায় ওমের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায় পুলিশ। এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করে ওয়ার্ধা এলাকা থেকে এক স্বর্ণকারকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। আর সেই স্বর্ণকারের সূত্র ধরেই গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে তদন্তের সূত্র ধরে নাগপুর থেকে সুপার চোরের এক বান্ধবীর সন্ধান মিলেছে। ফেসবুকে আলাপ হওয়া ক্লাস টুয়েলভের এই ছাত্রীকে মাঝেমাঝেই ওম প্রকাশ দামি উপহার দিতেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ওমের মোবাইল আলাপের সূত্র ধরে দিল্লি থেকে আরেক বান্ধবীকে আটক করেছে পুলিশ। দুজনকেই জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে তাঁদের প্রায়শই সোনার গয়নাসহ দামি উপহার দিতেন ওম।

এদিকে পুলিশের কাছেও ‘সুপার চোর’ ওম স্বীকার করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো। আর সব অভিযোগেই ওমের সাফ স্বীকারোক্তি‚ সাত-সাতজন প্রেমিকাকে খুশি রাখতে চুরি-ডাকাতি ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না তাঁর।