মেইন ম্যেনু

নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু

সাদাপোশাকে আটক না করার পরামর্শ

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেছেন, সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী যেন কাউকে আটক করতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। যদি আটক করতে হয়, আটককারীকে নিজের পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। আটক করে কোথায় নিয়ে যাবে, বলতে হবে। দুইজন স্থানীয় সাক্ষী রেখে আটক করবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে উপস্থিত করতে হবে।

রাষ্ট্রের মাধ্যমে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজধানীর কারওয়ানবাজারে আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত ‘নির্যাতন, হেফাজতে মৃত্যু: নিবারণ’ শীর্ষক সেমিনারে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মিজানুর রহমান বলেন, সন্ত্রাস দমন করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী যেন নিজেই সন্ত্রাসীতে পরিণত না হয়। রাষ্ট্রের দ্বারা যাতে কেউ কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার না হয়। রাষ্ট্রের নাগরিকের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। মানবাধিকারের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে উদার ও মানবিক। সেটি করতে হলে বাস্তব পরিস্থিতিকে স্বীকার করে নিতে হবে।

‘বাস্তবতা হলো, রাষ্ট্রের মাধ্যমে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু হচ্ছে। আর এগুলো নিবারণে আইন প্রনয়ণ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিধি প্রণয়ন করা হয়নি। এ কারণেই আদালত এগুলো আমলে নিতে পারছে না,’ মন্তব্য করেন তিনি।

একইসঙ্গে আটকদের তথ্য সম্বলিত রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মানবাধিকার কমিশনে পাঠানোর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বানও জানান ড. মিজান।

তিনি বলেন, ‘আমি বারবার আইজিপিকে বলেছি। তিনি আসেননি। এই সেমিনারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি থাকার দরকার ছিল। কেন আসেননি? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জবাব নিতে হবে।’

আইনের বিভিন্ন দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও নির্যাতন, হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন-২০১৩ করায় সরকারকে সাধুবাদ জানান তিনি।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন রাউল ওয়ালেনবার্গ ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান রাইটস সুইডেনের প্রফেসর লিয়াল সুঙ্গা, নিউজিল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটনের পিএইচডি গবেষক এসএম মাসুম বিল্লাহ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল আলীম, জমাকনের সদস্য মিস আরমা দত্ত প্রমুখ।