মেইন ম্যেনু

সানিকে দেখে আদালতে অঝোরে কাঁদলেন নাসরিন

জাতীয় দলের ক্রিকেটার আরাফাত সানিকে দেখে আদালতের ভেতরে অঝোরে কাঁদলেন তার কথিত স্ত্রী নাসরিন সুলতানা। কাঁদতে কাঁদতে নাসরিন বলেন, ‘আমি তাকে দেখে খুব কষ্ট পাচ্ছি। হাজার হলেও সে আমার স্বামী।’

বুধবার বেলা ২টায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় জামিন শুনানির জন্য সানিকে সাইবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। এ সময় নাসরিন সুলতানাও আদালতে হাজির হন। নাসরিন সানিকে দেখে অঝোরে কাঁদতে থাকেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, সানির জন্য আমার কষ্ট হচ্ছে। আমি চাই এ কষ্ট থেকে সানি মুক্তি পাক।

নাসরিন আরো বলেন, সানি বলেছে তাকে কারাগার থেকে বের করলে সে আমাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করে নেব। এ সময় নাসরিন এই প্রতিবেদককে বলেন, সে আমাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিলে আমি মামলা তুলে নেব।

সানির আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হিরু সানির পক্ষে জামিন শুনানি করেন। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মুরাদুজ্জামান মুরাদ। হিরু জামিন শুনানিতে বলেন, মামলাটি ঘটনার অনেক পরে করা হয়েছে। সানি জাতীয় ক্রিকেট দলের একজন সদস্য। তাই তাকে জামিন দেয়া হোক।

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম শামীম তার জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, নাসরিনের ছবি সানি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে অপরাধ করেছে। সে যদি তার স্ত্রী হয় তাও ছবি প্রকাশ করতে পারে না।

শুনানি শেষে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাইফুল ইসলাম তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এর আগে ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম সামছুল আলমের আদালতে তার আইনজীবী মুরাদুজ্জামান মুরাদ এই জামিন আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল জামিন শুনানির আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

২৪ জানুয়ারি এক দিনের রিমান্ড শেষে আরাফাত সানিকে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদশর্ক (এস আই) ইয়াহিয়া। অপরদিকে তার আইনজীবী মুরাদুজ্জামান মুরাদ জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম জাকির হোসেন টিপু জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২২ জানুয়ারি আরাফাত সানিকে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন এস আই ইয়াহিয়া। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম প্রণব কুমার হুই একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ওইদিন সকালে আমিনবাজার এলাকা থেকে আরাফাত সানিকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। সানির বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা করেন তার এই কথিত স্ত্রী।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, আরাফাত সানির সঙ্গে ওই তরুণীর ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর বিয়ে হয়। গত বছরের ১২ জুন আরাফাত সানি দু’জনের কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও ওই তরুণীর কিছু আপত্তিকর ছবি ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে পাঠান। ছবি পাঠিয়ে আরাফাত সানি ওই তরুণীকে হুমকি দেন। পরে আবার ২৫ নভেম্বর ওই তরুণীকে আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে হুমকি দেন আরাফাত সানি।

এ ঘটনায় নাসরিন সুলতানা নামে ওই তরুণী বাদী হয়ে ৫ জানুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে প্রথম মামলা করেন। পরদিন যৌতুক আইনে দ্বিতীয় মামলা করেন। আর ১ ফেব্রুয়ারি যৌতুকের জন্য মারধরের ঘটনায় তৃতীয় মামলাটি করেন নাসরিন।