মেইন ম্যেনু

সান্ত্বনার জয় নিয়ে বাড়ি ফিরছে পাকিস্তান

দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। একটি প্রাক্তন, আরেকটি বর্তমান। বলছি পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার কথা। দুই চ্যাম্পিয়ন বাঘের থাবার শিকার। ফলাফল এশিয়া কাপ থেকে বিদায়।

বাংলাদেশের কাছে হেরে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা এশিয়ার সেরার লড়াই থেকে ছিটকে গেছে বুধবারই। তাই শুক্রবারের ম্যাচটি ছিল দুই দলের নিয়ম রক্ষার ম্যাচ। অনেকেই বিশ্বকাপের আগে দুই দলের ‘ড্রেস রিহার্সাল’ও বলছেন।

যে যাই বলুক, বিশ্বকাপের আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শুক্রবারের পাওয়া ৬ উইকেটের জয় পাকিস্তানকে হাফ ছেঁড়ে বাঁচিয়েছে। অন্তত শনিবার দেশে ফিরে মুখ দেখাতে পারবে ক্রিকেটভক্তদের সামনে। মিরপুরে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৫১ রানের টার্গেট তাড়া করে পাকিস্তান জয় পেয়েছে হেসে-খেলে। আগে ব্যাটিং করে শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেটে ১৫০ রান তুলে নেয়। পাকিস্তান তা করে ফেলে ৬ উইকেট ও ৪ বল হাতে রেখে।

পাকিস্তানের আমন্ত্রণে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত খুব বড় পুঁজি পায়নি লঙ্কানরা। দুই ওপেনার উড়ন্ত সূচনা এনে দেন শ্রীলঙ্কাকে। কিন্তু টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় রানের চূড়ায় যেতে পারেনি লঙ্কানরা।

টসের আগেই খবর আসে ইনজুরির কারণে খেলছেন না ভারপ্রাপ্ত লঙ্কান অধিনায়ক অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। তাই শহীদ আফ্রিদির সঙ্গে টসে নামলেন দিনেশ চান্দিমাল। নিয়মিত অধিনায়ক লাসিথ মালিঙ্গার পরিবর্তে দুই ম্যাচ অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছিলেন ম্যাথুস। তার হাত থেকে আবারো অধিনায়ক বদল।

শুরুতেই পাকিস্তানের বোলারদের ওপর চেপে বসেন দুই লঙ্কান ব্যাটসম্যান দিনেশ চান্দিমাল ও তিলকারত্নে দিলশান। অভিজ্ঞ ক্রিকেটার দলে না থাকায় দুই ক্রিকেটার বড় স্কোর গড়ার দায়িত্বটা নিজেদের কাঁধেই নিয়ে নেন। ১১০ রান আসে তাদের উদ্বোধনী জুটি থেকে। ১৪ ওভারে এ রান জমা করেন তারা। ওভার প্রতি রান রেট ছিল ৭.৮৫।

উইকেট খরায় থাকা পাকিস্তানকে ম্যাচে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন পেসার ওয়াহাব রিয়াজ। ১৫তম ওভারের প্রথম বলে ৪৮ বলে ৫৮ রান করা দিনেশ চান্দিমালকে আউট করেন। পরের ওভারে প্রথমবারের মতো বোলিংয়ে এসে শোয়েব মালিক তুলে নেন সিহান জয়াসুরিয়ার উইকেট (৪)। ১৮তম ওভারে সাত ফুট লম্বা পেসার মোহাম্মদ ইরফান কাপুগেদারা (২) ও দাসুন সানাকার(০) উইকেট তুলে নেন।

শেষ ২ ওভারে দিলশান ও মিলিন্দা সিরিবর্ধনে ২৩ রান যোগ করে দলের স্কোরকে ১৫০ এ নিয়ে যান। পুরো টুর্নামেন্টের ফ্লপ ব্যাটসম্যান দিলশান শেষ ম্যাচে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। ৫৬ বলে ১০ চার ও ১ ছক্কায় ৭৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। সতীর্থ মিলিন্দা সিরিবর্ধনের ব্যাট থেকে আসে ৪ রান।

পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ ইরফান নেন সর্বোচ্চ ২ উইকেট। ১টি করে উইকেট নেন ওয়াহাব রিয়াজ ও শোয়েব মালিক। এশিয়া কাপে দারুণ বোলিং করা মোহাম্মদ আমির এদিন স্বরূপে ছিলেন না। ৪ ওভার বোলিং করে রান খরচ করেছেন ৩১।

জবাবে দলীয় ২৩ রানে মোহাম্মদ হাফিজকে (১৪) হারায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় উইকেটে শারজিল খান ও সরফরাজ আহমেদ দলকে ৫৮ রান পর্যন্ত টেনে নেন। ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করে ব্যাটিংয়ে আসা সরফরাজ ৩৮ রান করে দলকে এগিয়ে নেন। শারজিল খান ৩১ করে ফিরে যাওয়ার পর সরফরাজও ৩৮ রানে ফিরে যান। জয়ের বাকি কাজটুকু সারেন উমর আকমল ও শোয়েব মালিক। উমর আক্রমণাত্মক খেলে ৩৭ বলে ৪৮ রান তুলে নেন ৪ চার ও ২ ছক্কায়। কিন্তু দলের থেকে মাত্র ১ রান আগে কুলাসেকারার বলে আউট হয়ে যান। শোয়েব মালিক ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন। তার সঙ্গে শূন্য রানে ছিলেন অভিষিক্ত ইফতেকার আহমেদ।