মেইন ম্যেনু

সাবধান! এখন কর ফাঁকি দিলেই ধরছে ফেসবুক

ঢাকার পল্টন এলাকার ‘কড়াই গোশত’ নামক রেস্তোরাঁয় গত সোমবার এক ভোক্তা খাচ্ছিলেন। খাওয়া শেষ হলে ভোক্তার কাছে খাবারের বিল এল। কিন্তু বিলটি দেখে ওই ক্রেতার সন্দেহ হলো। তিনি ওই বিলের ছবি তুলে তা ‘ভ্যাট ইন্টেলিজেন্স’ নামের একটি ফেসবুক পেজে বার্তা পাঠান। সঙ্গে সঙ্গে মূসক গোয়েন্দারা ওই পেজের মাধ্যমেই জানিয়ে দিলেন, বিলে উল্লেখ করা মূসক নম্বরটি ভুয়া।

এর পরপরই তৎপর হয়ে ওঠেন মূসক গোয়েন্দারা। তাৎক্ষণিকভাবে পল্টনের ওই রেস্তোরাঁয় গিয়ে অভিযান চালায় একটি গোয়েন্দা দল। তারা দেখতে পায়, ওই রেস্তোরাঁর মালিক বাড্ডার একটি ঠিকানা ব্যবহার করে মূসক নিবন্ধন নিয়ে ভোক্তাদের কাছ থেকে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) রাখছেন। আর ওই মূসক নিবন্ধনের অনুকূলে মাসে মাত্র ৩০ হাজার টাকা মূসক দেন তিনি। রেস্তোরাঁটির মালিক পল্টনে ব্যবসা করলেও ওই এলাকার জন্য কোনো মূসক নিবন্ধন নেননি। সে জন্য মূসক গোয়েন্দারা রেস্তোরাঁটির সব কাগজপত্র জব্দ করে নিয়ে যান। এসব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে মূসক আদায় করা হবে।

এভাবেই এখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূসক বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে মূসক ফাঁকি ধরছে। এ জন্য সম্প্রতি ভ্যাট ইন্টেলিজেন্স নামের ফেসবুক পেজটি (VAT Intelligence মূসক গোয়েন্দা) খোলা হয়েছে। আর গত সোমবারের অভিযানটি ফেসবুকে তথ্য পেয়ে মূসক গোয়েন্দাদের প্রথম অভিযান। এভাবে পরের দুই দিনেও একাধিক অভিযান চালিয়েছেন মূসক গোয়েন্দারা।

এই ফেসবুক পেজটি পরিচালনা করছে মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। আর কোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে একটি বিশেষ দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এ ছাড়া ফেসবুক পেজটিতে মূসক গোয়েন্দাদের কার্যক্রমও তাৎক্ষণিকভাবেই প্রচার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক শক্তিশালী হয়ে গেছে। এ মাধ্যমটি ব্যবহার করে আমরা মূসক ফাঁকিবাজ ধরার চেষ্টা করছি। তরুণ প্রজন্ম এখন মুঠোফোনে ফেসবুক ব্যবহার করেন, ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। তাঁরা বিক্রেতার দেওয়া বিলের মূসক নম্বর সঠিক কি না, তা মুঠোফোনের মাধ্যমেই যাচাই করতে পারেন। ভ্যাট ইন্টেলিজেন্স ফেসবুক পেজে বার্তা দিলে তাৎক্ষণিকভাবেই মূসক গোয়েন্দারা ব্যবস্থা নেবেন। এ ব্যবস্থা বেশ কার্যকর হয়ে উঠছে।’

একই উপায়ে তথ্য পেয়ে গত মঙ্গলবার তিনটি অভিযান পরিচালনা করেছেন মূসক গোয়েন্দারা। বিকেল চারটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযানটি চালানো হয়। সেদিন এক ভোক্তার কাছ থেকে তথ্য পেয়ে মহাখালীর ঘরোয়া রেস্তোরাঁয় অভিযান চালান মূসক গোয়েন্দারা। সরেজমিনে তাঁরা দেখেন, রেস্তোরাঁটি ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার (ইসিআর) ব্যবহার করে না। আবার মূসক কেটে রাখা হয়েছে এমন রসিদও ভোক্তাকে দেওয়া হয় না। সে জন্য প্রতিষ্ঠানটির কাগজপত্র জব্দ করে নিয়ে যান গোয়েন্দারা।

একই দিনে অভিযান চালানো হয় উত্তরার শী সেল রেস্তোরাঁ এবং শী সেল রেসিডেন্সে। এ দুটি প্রতিষ্ঠানে বিক্রির রসিদ দেওয়ার জন্য পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) মেশিন থাকলেও তা ব্যবহার করা হয় না। অথচ এ দুটি প্রতিষ্ঠানের মূসক নিবন্ধন রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র জব্দ করে নিয়ে এসেছেন মূসক গোয়েন্দারা। হিসাব-নিকাশ করে শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে ওই ফেসবুক পেজের সাহায্য ছাড়াও কোনো পণ্যসেবা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের মূসক নিবন্ধনটি সঠিক কি না, তা যাচাই করা যাবে। যেমন, আপনি একটি রেস্তোরাঁ বা ফাস্টফুডের দোকানে গিয়ে খাওয়া কিংবা কোনো বিপণিবিতান থেকে কেনাকাটা করার পর আপনাকে বিলের যে কপিটি দেওয়া হয়, তাতে ওই প্রতিষ্ঠানের মূসক নিবন্ধন নম্বর থাকে। সেই নম্বরটি এনবিআরের ওয়েবসাইটে গিয়ে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা বিআইএন স্ট্যাটাস বারে গিয়ে ‘সার্চ’ দিলেই ওই প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাসহ স্ক্রিনে বা পর্দায় নম্বর ভেসে উঠবে। যদি ঠিকানা ভুল থাকে, তবে মনে রাখতে হবে, ওই প্রতিষ্ঠানের মূসক নিবন্ধন নম্বরটি ভুয়া। আর এ খবরটি সঙ্গে সঙ্গে ভ্যাট ইন্টেলিজেন্স ফেসবুকে দিলেই তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান শুরু হবে।প্রথম আলো



« (পূর্বের সংবাদ)