মেইন ম্যেনু

সাবধান! এ নদীতে নামলেই মৃত্যু

প্রকৃতির এক আশ্চর্য উপহার নদী। তাই তো যুগ যুগ ধরে নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠেছে মানব সভ্যতা। স্থির শান্ত এক নদীর কাছে গিয়ে মানুষ পায় শান্তি। দেহ মনের সমস্ত পঙ্কিলতাকে ধুয়ে মুছে মানব জনমকে পবিত্র করে সদা বহমান সলিল ধারা। তাই বুঝি নদীকে নিয়ে এত গান, গল্প আর উপকথা গড়ে তুলেছে মানুষ।

যেই নদী মানুষের জীবন, বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন তাকে কেন ভয় পাবে মানুষ। সত্যিই তাই! ভারতের দিল্লি অঞ্চলে রয়েছে এমন এক নদী যার কাছে যেতে মানুষ ভয় পায়। স্থানীয়রা বলেন, এর কাছে গেলে আর রক্ষা নেই। ছলনাময়ী জল তাকে টেনে নেবে নিজ বক্ষে। এজন্যই রোহিনী নদীর আর এক নাম খুনে নদী।

যদিও এ নদীতে জল খুবই সামান্য। তাইতো এখানে কারো ডুবে যাওয়ার ভয় নেই। তারপরও এই শুকিয়ে যাওয়া নদীটিকে কেন এত ভয়! এটাই তো রহস্য! নয়াদিল্লির রোহিণী এলাকার খুনি নদীও যেন অপরিসীম রহস্যের উৎস। লোকে বলে, এ নদীতে একবার নামলে কেউ আর জীবন্ত ফেরে না! এই রহস্য উদ্ধারে এখন পর্যন্ত কেউ উদ্যোগী হওয়ারও খবর মেলেনি।

আসলে এর কারণ লুকিয়ে রয়েছে অতীত ইতিহাসে। এক সময় অত্যাচারী শাসকরা এই নদীকে ব্যবহার করত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরী করার স্থান হিসেবে। অপরাধীদের এখানে জীবন্ত ডুবিয়ে মারা হত। কখনও বা, মাথা কেটে লাশ ফেলে দেওয়া হত নদীর জলে।

এরপর সময়ের এর স্রোতের ধারায় কত জল বয়ে গিয়েছে। কালের গ্রাসে বুড়ি হয়েছে রোহিণী নদী। ধীরে ধীরে কমে এসেছে জলের পরিমাণ। এতটাই কমে এসেছে যে বড় জোর হাঁটু ডুববে! তারপরও নদীর জলে কেউ পা দিতে সাহস পায় না! এখানে পা দিলেই যে টেনে নেবে মৃত্যুদূত। যদিও নদীতে চোরাবালি নেই, জলও গভীর নয়। তারপরও নাকি এখানে জলে ডুবে মানুষ মারা যায়।

তাই বুঝি এর জলে পা স্পর্শ করার সাহস পান না কেউ। এলাকার লোকজন এর তীরেও খুব একটা যান না! তাঁরা বলেন, কাছে গেলেই নাকি এই নদী ভুলিয়ে পালিয়ে তাদের জলে টেনে নেবে।

এছাড়াও অনেকে বলেন, খুনি নদীর ধারে সন্ধ্যার পরে গেলেই নানা অদ্ভুত অদ্ভুত আওয়াজ শোনা যায়। কখনও শোনা যায় দীর্ঘনিশ্বাস ফেলার শব্দ, কখনও কানে আসে হাসি বা কান্নার আওয়াজ! অনেকে এই সব আওয়াজ শুনে পালাতে গিয়েও পড়েছেন নদীতে। তারপর আর বেঁচে ফেরেননি! খুনি নদীর তৃষ্ণা অবশ্য কিছুতেই মেটে না। ঠিক সে অপেক্ষা করে থাকে নতুন কোনো শিকারের জন্য! ভুল করে কেউ কাছে গেলেই তাকে টেনে নেয় নিজের বুকে।