মেইন ম্যেনু

সাবধান! ওঁত পেতে আছে সুন্দরী মেয়েরা : যেকোনো সময় পড়তে পারেন ফাঁদে

প্রথমে বিত্তশালী যুবককে টার্গেট। তারপরেই তাকে অনুসরণ করে সুন্দরী তরুণী। সুযোগমতো হাই-হ্যালো করে ফোন নম্বর বিনিময়। তারপর শুরু হয় কথোপকথন। ফোনে কথা বলা থেকেই প্রেম। একসময় কৌশলে ডেকে নেয়া হয় বাসায়। বাসাতেই উন্মোচিত হয় কৃত্রিম প্রেমের স্বরূপ। বিশেষ মুহূর্তে ‘ডিবি পুলিশ’ অভিযান চালায় ফ্ল্যাটে। অতঃপর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের আলোকচিত্র ধারণ ও তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের চাঁদা। এরকম চার ভুয়া ডিবি পুলিশ ও দুই ভুয়া প্রেমিকাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। তাদের কাছ থেকে এক জোড়া হাতকড়া, পুলিশের তিনটি আইডি কার্ড, একটি ক্যামেরা, ভিকটিমের চারটি আপত্তিকর ছবি, ২২ হাজার ৪৫০ টাকা, ৯টি মোবাইল হ্যান্ডসেট ও একটি লাঠি জব্দ করা হয়েছে।

৩ জুলাই দুপুরে র‌্যাব-১ এর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মো. মাসুদ জানান, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণখান ও উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। এছাড়া চক্রের নারী সদস্যরা দেশের বিত্তশালীদের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে ফোন মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদে ফেলত। পরে কৌশলে নিজেদের আস্তানায় নিয়ে অশ্লীল ছবি তুলে জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা আদায় করতো। বৃহস্পতিবার দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকায় এই চক্র ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছিল। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টায় অভিযান চালিয়ে ওই এলাকার মজিবর মার্কেটের শারমিন টেলিকমের সামনে থেকে চক্রের দলনতা খায়রুল আলম প্রকাশ ওরফে রবিউল এবং তার সহযোগী পান্নু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের সদস্য সাইফুল ইসলাম নিলয়, খাইরুল ইসলাম মনির, শামীমা আক্তার তৃষ্ণা এবং উম্মে তাসনিন ইভাকে উত্তরা পূর্ব থানার ৬ নম্বর সেক্টরের হাউজ বিল্ডিং সংলগ্ন উত্তরা গালর্স হাইস্কুলের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

লে. কর্নেল তুহিন মো. মাসুদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিনব পদ্ধতিতে প্রতারণা করে আসছিল। মূলত এ চক্রের নারী সদস্যরা বিভিন্ন অফিস, বাসস্ট্যান্ড, মার্কেট ও খাবার দোকানে বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে। পরে কৌশলে মোবাইল ফোন নম্বর আদান-প্রদান করে। মোবাইলে কথোপোকথনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। সম্পর্ক কিছুটা গভীর হওয়ার এক পর্যায়ে নির্ধারিত ফ্ল্যাটে ওই ব্যক্তিকে ডেকে নিয়ে নেয়। ঠিক ওই সময় চক্রের পুরুষ সদস্যরা ওই ঘরে প্রবেশ করে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে ভিকটিমকে মারধর করে। তারপর ওই ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারক নারীর অশ্লীল ছবি তুলে তার আত্মীয়স্বজন কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের ভয় দেখিয়ে নিয়মিতভাবে চাঁদা আদায় করে এই চক্র। কখনও এই প্রতারক নারীদের ব্যবহার করে চক্রটি বিভিন্ন ফ্ল্যাটে দেহ ব্যবসার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে।

গ্রেপ্তার শামীমা আক্তার তৃষ্ণাকে চাকরির কথা বলে ঢাকায় নিয়ে আসে প্রতারক চক্রের সদস্য পান্নু মিয়া। চক্রের সদস্য খায়রুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে তাকেও এই চক্রে সক্রিয় করা হয়। গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী উম্মে তাসনিন ইভা এক সময় এমএলএম ব্যবসা করতো। পরে অর্থলোভের বশবর্তী হয়ে এই অপরাধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় বলে লে. কর্নেল তুহিন মো. মাসুদ জানান। মানবজমিন