মেইন ম্যেনু

সাবধান! কুকুরকে ঢিল ছুড়লে হতে পারে জেল

ভারতের পশুপ্রেমীদের জন্য সুখবর। পশুনি‌র্যাতনের রুখতে বর্তমান আইন ও তাতে সাজার মেয়াদ পুনর্বিবেচনার দাবিতে দায়ের মামলা গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

সম্প্রতি দেশজুড়ে পশুনি‌র্যাতনের একাধিক ঘৃণ্য ঘটনা সামনে আসার পর আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কয়েকজন পশুপ্রেমী। মাস খানেক আগে বেঙ্গালুরুতে মায়ের সামনে পাথর দিয়ে থেঁতলে পাঁচটি কুকুরছানাকে মেরেছিলেন এক মহিলা। আবেদনে সেই ঘটনাটিরও উল্লেখ করেছেন পশুপ্রেমীরা।

একই রকম মর্মান্তিক একটি ঘটনায় দিল্লিতে এক ইঞ্জিনিয়ার বেশ কয়েকটি কুকুরছানা ও একটি কুকুরকে ছুরি দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেছিলেন। তার পর শহরের এক মেট্রো স্টেশনের কাছে ফেলে দিয়েছিলেন দেহগুলি। গ্রেফতারির পর স্বীকারোক্তিতে ওই ‌যুবক জানিয়েছিল, হতশা থেকে নিষ্কৃতি পেতেই এই কাজ করেছিল সে।

প্রতি দিন গোটা দেশে এরকম হাজারো ঘটনা ঘটে। এমন ঘটনায় অধিকাংশ সময় নালিশ জমা পড়ে না পুলিশের কাছে। ফলে পার পেয়ে ‌যান অভি‌যুক্তরা। এমনকী এই ধরনের দুষ্কর্মকে অপরাধ বলে মনেই করেন না অনেকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ক্রমবর্ধমান বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যাও এর পিছনে একটা বড় কারণ। ন্যাশনাল লাইভস্টক সেন্সাস অনু‌যায়ী ২০১২ সালে দেশে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা ছিল ১.৭১ কোটি। কিন্তু প‌র্যাপ্ত কঠোর আইন না-থাকায় এদের নিরাপত্তা সুরক্ষিত নয়।

পশুদের সুরক্ষা দিতে এদেশের সংবিধানে আলাদা কোনও সু‌যোগ নেই। ১৯৬০ সালের আইন অনু‌যায়ী কোনও প্রাণীর বিরুদ্ধে নি‌র্যাতনের অভি‌যোগে কেউ গ্রেফতার হলে প্রথমবার অপরাধের জন্য দিতে হয় মাত্র ৫০ টাকা জরিমানা। এমনকী গৃহপালিত কোনও প্রাণীকে কোনও ক্ষতি করলে তার বিচার হয় সম্পত্তিহানির মামলা হিসাবে।

মামলার অন্যতম আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, ‘সভ্য সমাজে কোনও কুকুরছানাকে থেঁতলে মারার শাস্তি ৫০ টাকা জরিমানা হতে পারে না। সংবিধানের ৫১ এ (জি) অনুচ্ছেদ অনু‌যায়ী শুধু মানুষ নয়, ভারতে সমস্ত জীবের সুস্থ ভাবে বাঁচার সমানাধিকার রয়েছে।’