মেইন ম্যেনু

সাবিনা ইয়াসমিনও বললেন, ‘এসব দুর্ভোগ মোকাবেলা করতে করতে অভ্যাস হয়ে গেছে’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। রোববার (২৮ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৫টা। কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় উড়ে এসেছে বেসরকারি রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট আর এক্স ৭৯২।

বেল্টে লাগেজের জন্যে অপেক্ষা করছেন দেশবরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। তার চারপাশে তখন রিজেন্টের সবগুলো আসন পূর্ণ করে আসা প্রায় দুইশ’ যাত্রী।

প্রায় চার দশক ধরে বাংলা গানের উচ্চাঙ্গ, ধ্রুপদী, লোকসঙ্গীত, আধুনিক বাংলা গানসহ চলচ্চিত্রের গান— সবক’টি ধারায় আলো ছড়ানো শিল্পীর দৃষ্টি তখন বেল্টে। কখন আসবে লাগেজ?

পাশেই দেশবরেণ্য শিল্পী। অন্য সময় হলে হুড়োহুড়ি পড়ে যেতো। কেউ সেলফি, কেউ বা অটোগ্রাফের আবদার নিয়ে ছুটে যেতেন শিল্পীর কাছে।

কিন্তু এখানে সবাই বিরক্ত। স্বল্প বা দীর্ঘ যাত্রা করেও সময়মতো লাগেজ না পাওয়ায় সবাই হতাশ।

দীর্ঘ লাইনে ইমিগ্রেশন শেষ করে বেল্টের কাছে এসেই হতাশ যাত্রীরা। ‘নিশ্চল বেল্ট। সচল হবে কখন? আর ভালো লাগে না। এ ভোগান্তির কি অবসান নেই!’- এসব আক্ষেপ আর হতাশায় ডুবে থাকা বেল্ট এরিয়ায় এসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ারও নেই কেউ।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এমন অব্যবস্থাপনায় দিন দিন বাড়ছে যাত্রী ভোগান্তি। যাত্রীসেবার মানও হচ্ছে নিন্মগামী।

পড়শি দেশ ভারতের একটি রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা। সেখানকার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন শেষ হওয়া মাত্র যাত্রীদের লাগেজ বেল্টে পৌঁছে যায়। আর ঢাকায় কোনো কোনো ফ্লাইটের যাত্রীদের শুধু লাগেজ পেতেই সময় লাগে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। দীর্ঘ সময়ে বিদেশিরা যেমন বিরক্ত হন, তেমনি অসুস্থও হয়ে পড়েন অনেকে। বিশেষ করে বৃদ্ধ যাত্রীরা।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অব্যবস্থাপনার কারণে এসব ভোগান্তি এখন যাত্রীদের গলার কাঁটা। এর বাইরে লাগেজ লাপাত্তা। লাগেজ থেকে মূল্যবান সামগ্রী চুরি। একযোগে সব পাল্লা দিয়ে চলায় সেবার মান নিয়ে আর প্রশ্নই খুঁজে পান না যাত্রীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রিজেন্টের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘পরম আতিথেয়তা আর আন্তরিকতায় যাত্রী বহন করে বিমানবন্দরে আসার পর এ ধরনের সার্ভিস সত্যিই দুঃখজনক। অনেকে না বুঝে আমাদের মতো বিমান সংস্থাকেও দায়ী করেন’।

‘তারা এটা বুঝতে বা মানতে চান না যে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ারপোর্ট সার্ভিস বলে একটি বিভাগও রয়েছে। যদিও বিমানবন্দরের বেল্টের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সিভিলিএভিয়েশন অথরিটির’।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বর্তমানে প্রতিদিন সব মিলিয়ে শতাধিক উড়োজাহাজ ওঠা-নামা করে। তবে যাত্রী বাড়লেও বাড়েনি সেবার মান। অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা আর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিস নিয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছেই না।

নিয়মিত যাত্রী হিসেবে খ্যাতনামা শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন বললেন, ‘এসব দুর্ভোগ মোকাবেলা করতে করতে রীতিমতো তা নিয়মিত অভ্যেস হয়ে গেছে’।