মেইন ম্যেনু

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ

অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও ঋণ শৃঙ্খলা ফেরাতে ফারমার্স ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন প্রজন্মের ৯টি ব্যাংকের মধ্যে এই প্রথম কোনো একটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হলো। এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনম আবুল কাশেমকে এ ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি ব্যাংকটির ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, ক্রেডিট ও অডিট কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন এবং তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।

বুধবার ব্যাংকটির পর্ষদের চেয়ারম্যানের কাছে পর্যবেক্ষক নিয়োগের চিঠি পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র বাংলামেইলকে বলেন, ‘ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় চরম অবনতি ঘটায় সেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও ঋণ ঝুঁকি মেকাবেলায় পর্যবেক্ষক কাজ করবেন।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অফসাইট সুপারভিশন বিভাগ থেকে ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষকরা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, ক্রেডিট ও অডিট কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া যেকোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার তিন কর্মদিবস আগে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যবেক্ষকের কাছে পাঠাতে হবে। ব্যাংকের আর্থিক সূচক উন্নত না হওয়া পর্যন্ত সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন পর্যবেক্ষক।

বর্তমানে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্যদের চেয়াম্যান হিসেবে দায়িত্বরত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘ব্যাংকটি শুরু থেকে নানা ধরনের অনিয়মের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে ফেলেছে, বারবার সতর্ক করেও কোনো প্রকার লাভ হয়নি। ব্যাংকটি শুরু থেকে অ্যাগ্রেসিভ ঋণ বিতরণ করে যাচ্ছে। গ্রাহকের টাকা নানাভাবে জালিয়াতি করে তুলে নিচ্ছে। অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার কোনো প্রকার বালাই নেই। সেখানে পর্যবেক্ষক না দিয়ে কোনো উপায় ছিল না।’

সর্বশেষ ব্যাংকটির গুলশান, মতিঝিল ও শ্যামপুর শাখায় ব্যপাক অনিয়মের চিত্র উৎঘাটন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পৃথক কয়েকটি তদন্তের মাধ্যমে গুরুতর অনিয়মগুলো বেরিয়ে আসে। অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানে ঋণ, ভুয়া প্রতিষ্ঠানে ঋণ, এক খাতের ঋণ অন্য খাতে ব্যবহারসহ গুরুতর সব অনিয়ম করে ফারমার্স ব্যাংক। গুলশান শাখায় প্রায় ৭০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ২০০ কোটি টাকার ঋণ অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। মতিঝিল শাখায় ৩০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ২০০ কোটি টাকার অনিয়ম সংঘটিত হয়। আর শ্যামপুর শাখায় প্রায় ৬৭ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের সব ঋণই অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও কৃষি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়।