মেইন ম্যেনু

স্পট ক্যন্টনমেন্ট-খিলক্ষেত-উত্তরা

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের দুই ভাগ্নের বেপরোয়া দখল-চাঁদাবাজি

তারা দু’জনই এলাকায় ‘ভাগ্নে’ হিসেবে পরিচিত। এদের একজন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের বোনের ছেলে সরোয়ার। আরেকজন সরোয়ারের আত্মীয়, সম্পর্কে ভাই। তার নাম মজিবর। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন তিনি। তাদের বেপরোয়া দখল-চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ক্যন্টনমেন্ট-খিলক্ষেত-উত্তরা এলাকার বাসিন্দা। খালা মন্ত্রী থাকা অবস্থায় উত্থান হয় তাদের। এখন মন্ত্রী না থাকলেও দাপট কমেনি।

জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রী স্থানীয় সাংসদ সাহারা খাতেুনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদবাজি-দখলদারিত্বে মেতে উঠেছেন তারা। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগও করতে পারে না। অভিযোগ করলেও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাগ্নে হওয়ায় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নিতে পারে না। তবে সম্প্রতি একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা এই দুই ভাগ্নের আমলনামা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

গোয়েন্দা সংস্থার ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন মানিকদী, মাটিকাটা, ভাষানটেক, খিলক্ষেত ও উত্তরা এলাকায় এমন কোনো অপকর্ম নেই যে সারোয়ার ও মজিবর করেননি। পুলিশের বদলী, চাকরি, পদোন্নতি, পুলিশ প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে ভূমিদখলসহ যাবতীয় কাজ করতেন তারা। বর্তমানে ক্যান্টনমেন্ট-খিলক্ষেত-উত্তর এলাকায় উন্নয়নে ভূমিকা রাখা কয়েকটি ডেভেলপার কোম্পানি থেকে নিয়মিত মোটা অংকের চাঁদা আদায় করেন এ দুই ‘ভাগ্নে’। তারা দু’জনই সাহারা খাতুনের নিজস্ব গাড়ি নিয়ে চলাফেরা করেন। বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে হুমকি দিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরা ও দক্ষিণখান এলাকার জমি দখল, বাড়ি দখল, টেন্ডারবাজি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেন তারা। কেউ তাদের কথার প্রতিবাদ করলেই থানা পুলিশ দিয়ে নানা রকম হেনস্তা করে থাকেন। এরকম অন্তত ডজনখানেক অভিযোগ জমা পড়েছে প্রভাবশালী ওই গোয়েন্দা সংস্থার দপ্তরে।

গোয়েন্দা সংস্থার কাছে আসা কয়েকটি অভিযোগ :
সারোয়ার ও মজিবর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার জোয়ার সাহারা মৌজার রমিজ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির পৈত্রিকভাবে পাওয়া ১ একর ৮৬ শতাংশ জমি গ্রাস করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ। রমিজ উদ্দিনের দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া রমিজ উদ্দিনের এই সম্পত্তি ভুলবশত আব্দুল আজিজ নামে এক ব্যক্তির রেকর্ডভুক্ত হয়। পরে রমিজ উদ্দিন আদালতের ডিক্রি নিয়ে পর্চা অনুযায়ী খাজনা পরিশোধ করেন। এছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিলসহ সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়মিত পরিশোধ করে আসছেন।

সম্প্রতি ওই সম্পত্তি সারোয়ার ও মজিবর বাহিনীর দৃষ্টিতে আসে। তারা সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ওই জমি দখলে নেয়ার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় অভিযোগ জানালে থানা পুলিশও তাদের কোনো সহযোগিতা করেনি। অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ক্যান্টনমেন্ট থানার এসি ও গুলশান জোনের ডিসির কার্যালয়ে মিটিং হয়েছে। কিন্তু সারোয়ার-মজিবর বাহিনী উল্টো থানা-পুলিশ তাদের হাতের মুঠোয় রয়েছে বলে হুমকি দেয়।

অভিযোগ থেকে আরো জানা যায়, সারোয়ার-মজিবর বাহিনী দখল ও অস্তিত্বহীন একজনকে বিবাদী সাজিয়ে প্রতারণামূলকভাবে একটি ইংজানশন আদেশ নিয়ে একাধিক ব্যক্তির জমি হাতিয়ে নিয়েছে। এভাবেই চলছে তাদের গোপন অপকর্ম।

এমনকি সারোয়ার-মজিবর বাহিনী সম্প্রতি রমিজ উদ্দিনের আপন চাচাতো ভাই আইয়ুব আলীকে ডিবি পরিচয়ে মাটিকাটার ইসিবি চত্বর থেকে অপহরণ করে অমানুষিকভাবে শারীরিক নির্যাতন করে। এতে আইয়ুব আলীর মৃত্যু হয়েছে ভেবে পূর্বাচল ৩০০ ফুট রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে পঙ্গু অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

শুধু রমিজ উদ্দিন নয়, সারোয়ার-মজিবর বাহিনী এভাবে একাধিক ব্যক্তির পৈত্রিক সম্পত্তি পেশী শক্তি ও প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাস করেছে। অন্যের জমি দখল বা ভুয়া কাগজপত্র সৃষ্টি করাই শুধু তাদের কাজ নয়, অন্যায়ভাবে মানুষের ক্ষতি করা, শাসানো, হুমকি ধমকি ও লাঞ্ছিত করাই তাদের প্রধান কাজ। মানিকদীর হাজী আব্দুস সালাম নামে এক ব্যক্তির পৈত্রিক বসতভিটার জাল কাগজপত্র তৈরি করে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে সর্বশান্ত করে রাস্তায় বসিয়ে দেয়া হয়েছে।

এছাড়া একই এলাকার দীল গনি ও আবুল বাশারদের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে তাদের বিতাড়িত করে ভুয়া কাগজপত্র সৃষ্টি করে সরোয়ার বাহিনী ভোগদখল করছে। সরোয়ার-মজিবর বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পায়নি খোদ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাও। মানিকদী যুবলীগের সাবেক সেক্রেটারি আব্বাসকে মানসিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করে রাস্তায় নামিয়ে দেয়। এছাড়া মাটিকাটার বাসিন্দা ফতেহ কবীর নামে অবসরপ্রাপ্ত এক কর্নেলের কেনা সম্পত্তিও সরোয়ার বাহিনী তার পালিত লোকদের দিয়ে জোর করে ভোগদখল করে আসছে। একই সঙ্গে আরো কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার জমিও এই সারোয়ার-মজিবর বাহিনী জবর দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, সরোয়ার ও মজিবরের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সঙ্গী হিসেবে পারভীন নামে এক নারী রয়েছে। এই পারভীন নিজেকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের বোন পরিচয় দিয়ে ফোন করে ভয়-ভীতি দেখায়। গুলশান-উত্তরা জোনের ডিসি, এডিসি, ওসি তাদের কাছে কোনো ব্যাপারই না বলে শাসায়। প্রতিবেদনে বেপরোয়া এই চাঁদাবাজি-দখলদারিত্বে নিয়োজিত থাকা সারোয়ার-মজিবর বাহিনীর বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সারোয়ার ও মজিবরকে পাওয়া যায়নি। বাংলামেইল।