মেইন ম্যেনু

‘সামান্য মুনাফার আশায় দেশের সুনাম নষ্ট করবেন না’

সামান্য লাভের আশায় বিদেশীদের কাছে দেশের সুনাম নষ্ট না করতে ব্যবসায়ীদের আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর খামারবাড়ীতে অবস্থিত কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে জাতীয় মৎস সপ্তাহ-২০১৬এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় তিনি বলেন, “আমি সরকারে এসে দেখলাম দেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে চিংড়ি রপ্তানি বন্ধ। এদেশ থেকে চিংড়ি রপ্তানির সময় চিংড়ির ওজন বাড়াতে চিংড়িতে লোহা ঢুকিয়ে দিত অনেকে। সেটা ধরা পড়ার পরেই এই দুর্ভোগ। পরে আমরা চিংড়ি ব্যবসায়ীদের ৪০ কোটি টাকা দিই মাছের মান বাড়ানোর জন্য। অল্প অল্প করে আবার মানসম্মত মাছ রপ্তানি করা শুরু করি।”

এরপর ব্যবসায়ীদের উদ্দ্যেশে তিনি বলেন, “যে জিনিসই বিদেশে রপ্তানি করি না কেন তার যেন মানটা ঠিক থাকে সেদিকে সবাই কে লক্ষ্য রাখতে হবে। মৎস রপ্তানির আগে মান নির্ধারণে তিনটি ল্যাব গঠন করেছি। তাই অল্প মুনাফার লোভ করতে গিয়ে দেশের ক্ষতি এবং পরবর্তীতে নিজেদের ক্ষতি করবেন না।”

একই অভিযোগ তিনি টানেন চিনিগুড়া চালের ক্ষেত্রে। চালও যতটা উৎপাদিত হচ্ছে সেটাই ভালোভাবে প্রক্রিয়াজাত করে সরবরাহ করার কথা বলেন তিনি। দামটা বেশি হলেও যেন জিনিসটা খাঁটি থাকে সেদিকে খেয়াল রাখার আহবান জানান।

মৎস উৎপাদন বৃদ্ধি ও ভোক্তার চাহিদা পূরণে নানান নীতিমালা গ্রহণের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এসবের সহায়তায় আগামীতে মাছের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরিতেও সক্ষম হওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি।

জেলেদের জীবন উন্নয়ন ও সবসময় সব মাছ ধরা রোধেও কিছু পদক্ষেপের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জেলেদের জন্য কার্ড করে দিয়েছি। গত ৪ মাস ধরে প্রতিমাসে ৪০ কেজি চাল পরিবারভিত্তিক দেওয়া হচ্ছে। খাবারে ফরমালিন নিয়েও খুব সমস্যা ছিলো। এখন ফরমালিন নিয়ন্ত্রণেও সক্ষম হয়েছি আমরা। জোর দেওয়া হচ্ছে মৎস চাষ ও কৃষিকাজ নিয়ে গবেষণার উপরও।

গভীর সমুদ্রে মৎস আহরণে জেলেদের এগিয়ে আসতে বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “ওখানে মাছ আহরণে অনেকেই আগ্রহী নয়। কিন্তু ওখানেই রয়েছে বিশাল মৎস সম্পদের ভাণ্ডার। আহরণ না করলে একসময় এই সম্পদ আমাদের হাতছাড়া হয়ে যাবে। টেন্ডার চেয়েছিলাম আমরা, সেটাও এসেছে খুব কম। নদী ড্রেজিংটাও এখন গুরুত্ব সহকারে করতে হবে। তাহলে বন্যার সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে আবার পলি জমে মাছের ক্ষতি হবে না।”

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মাছের পরিমাণ বাড়লে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। মৎস সম্পদের বৃদ্ধি করে শুধু আমরা নিজেরাই মাছ খাবোনা, যারা মাছ খাইনা তাদেরও মাছ খাওয়া শেখাবো।”