মেইন ম্যেনু

সাম্মি ইসলাম নীলার কবিতা

কার্বন জানাজা

ইহলৌকিক অঙ্গ দেবদারু পাতার ছায়ায় ঢেউয়ে ক্লান্ত চুলের বাসর। সজারু রুক্ষ বেশে ছাইভস্মে উড়িয়েছি শুকনো মস্তক। গোল্ডেন গ্লোবে মুঠো সুখ সঞ্চয় করি সিরামিক আবরণ; করুণ আর্তনাদে দুলছে অশীরীরী মাংসল গম্বুজ। মানুষ হওয়ার আকাঙ্খায় জোড়া চড়ুই আড়ি পাতে পরজীবী স্তর। আক্রোশগুলো অক্টোপাসের মতো আঁকড়ে ধরে সুখের নহর; জমাজলে খুঁজি উষ্কখুষ্ক চাহনি। আয়ু ঘনিয়ে এলে শূন্যের যোনিতে ছুড়ে মারি নিজের কার্বন জানাজা।

কৃষি দেশ

কৃষাণী অঙ্গে ঢেউ খেলে সোনালি আঁশের শাড়ি
উদীয়মান সকালের সূর্য ছড়ায় গ্রামীণ চেক শরীরে
আলোর চমক মেখে ছুঁয়ে যায় নেতানো কুমড়ো ফুল
কিংবা মিহি লাউ লতা
আউশ আমনের মিষ্টি ঘ্রাণ গ্রামীণ নকশীকাঁথার ভাঁজে
কাস্তে লুকিয়ে মাতিয়ে তুলি ইলিশপুর।
ঝরা শিমুল ফুলে কুয়াশার রঙিন পায়ে মল বাজে
কাঁপিয়ে ঘুমহীন পুরুষপল্লী।
তুমি আবার এসো সখা শীতের প্রথম সকালে
সুতপা’র সংযত রসভর্তি কলসি
শালিক দোয়েল কিবা বাহারি রং পাখির কিচির মিচির;
বাংলার যৌবন ফিরে এসো আনাচে কানাচে
ফুটে থাকা অসংখ্য ফুলে ছদ্মবেশী মৌমাছি
চুমে যাও উঁচু নিচু মাটির বুক; চিবুক।
আবার এসো রোদ, বৃষ্টি-ছায়া হয়ে কৃষকের মাথালে
কৃষাণীর হাতের ধানের কুলায়।