মেইন ম্যেনু

সালিশে নারী কাউন্সিলরকে কষে কামড়!

আইসিডিএস কর্মী ও হেল্পারদের নিয়ে মিটিংয়ে বসেছিলেন বেলডাঙা ২ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর মধুমিতা বিশ্বাস। হঠাৎই পুরনো কাঠের দরজাটা সজোরে ঠেলে ঘরে ঢুকলেন দুজন। হতভম্ব কাউন্সিলর খানিক ক্ষুণ্ন হয়েই ছুড়ে ছিলেন প্রশ্নটা- ‘আপনারা?’ ভাবতে পারেননি উত্তরটা ফিরে আসবে একগুচ্ছ গালাগালি হয়ে। নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে কিছু একটা বলতে গিয়েছিলেন মধুমিতা। এবার গালমন্দে বহর চড়ল আরও। রাগ-লজ্জায় চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে মধুমিতা তোপ দাগলেন- ‘বেরোন, বেরিয়ে যান এখুনি।’ টেবিলের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা মাঝবয়সী মা আর ছেলে দু’পা পিছিয়ে গিয়েছিলেন বটে। তবে চমকে দেয়া ঘটনাটা ঘটল তার পরেই। সবুজ বেঞ্চিতে গাদাগাদি করে বসে থাকা আইসিডিএস কর্মীদের মধ্যে থেকে তড়াক করে উঠে দাঁড়ালেন ছিপছিপে এক তরুণী। মধুমিতা কিছু বোঝার আগেই চেয়ার ডিঙিয়ে তেড়ে এলেন সেই তরুণী। তার পরেই ঘ্যাঁক, মধুমিতার পিঠে মোক্ষম এক কামড় দিয়ে শাড়ির কোঁচড়ে মুখ মুছে বেরিয়ে গেলেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে ওই ‘ঘ্যাঁক কাণ্ড’ বেলডাঙা বড়ুয়া কলোনী মাঠের ধারে পুর অফিসে। কাঁধের কাছে খানকয়েক পুরুষ্টু দাঁতের অত্যাচার আড়াল করতে অতঃপর দিনভর আঁচল জড়িয়েই থাকতে হয়েছিল কাউন্সিলরকে। কামড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে যার বিরুদ্ধে, তিনি এক আইসিডিএস কর্মী। আর সেই দুই আগন্তুক, ওই কর্মীরই মা ও দাদা। সব শুনে সিডিপিও ওই কর্মীকে কামড়ের কারণ দর্শানোর নোটিস ধরিয়েছেন। আর মধুমিতা ওই কর্মী, তার মা ও দাদার বিরুদ্ধে হেনস্থা, কাজ করতে না দেয়া ও মারধরের অভিযোগ দায়ের করেছেন থানায়। ঘটনার সূত্রপাত বেশ কিছু দিন আগেই। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, বেলডাঙা পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের আইসিডিএস কেন্দ্রে খাবারের গুণমান নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেই নিয়ে কেন্দ্রের সহায়িকা ও কর্মীদের মধ্যে গণ্ডগোল লেগেই থাকত। ওই বিষয়টি নিয়েই বসেছিল সালিশ। সূত্র: আনন্দবাজার।