মেইন ম্যেনু

সাড়ে পাঁচ কোটি বছর শাসন করা ‘ভয়াল পাখি’!

গায়ে পালক, উচ্চতা মানুষের চেয়েও বেশি৷ উটপাখির মতো লম্বা গলা, এ পাখির পিঠই মানুষের মাথা ছাড়িয়ে যায়৷ টির্যানোসেরাস রেক্সের মতো পা, ইগলের মতো বাঁকানো ঠোটের এক ঘায়ে অনায়াসে ভেঙে যায় ঘোড়ার শিরদাঁড়াও৷ ক্রুর, জ্বলন্ত চোখের দিকে তাকিয়ে থাকা যায় না৷ নাম অ্যান্ডালগ্যালর্নিস বা ভয়াল পাখি৷

বাঙালিদের সঙ্গে এই পাখির পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন সত্যজিত্‍ রায়৷ দণ্ডকারণ্যের গহনে চক্রপর্ণ নামের এক গাছের পাতা খুঁজতে গিয়ে একটি ডিম খুঁজে পেয়েছিলেন কলকাতার তুলসীবাবু ও তার বন্ধু প্রদ্যোত্‍বাবু৷ হলুদের ওপর চকোলেটের ডোরা, তারই মাঝে নীলের ছিটেফোঁটা৷

দুই বন্ধুর সামনেই ডিম ফুটে বের হয় পাখির একটি ছানা৷ জাত চিনতে পারেননি তারা৷ শুধু তারা নন, কলকাতার এক পক্ষীবিদও হার মেনেছিলেন৷ বড়সড় ঠোঁটের জন্য ম্যাট্রিকে সংস্কৃতে লেটার পাওয়া তুলসীবাবু পাখির নাম রেখেছিলেন ‘বৃহচ্চঞ্চু’৷

সত্যজিতের সেই ‘বৃহচ্চঞ্চু’ একেবারেই কল্পলোকের বাসিন্দা নয়৷ আনুমানিক ছ’কোটি বছর আগে ভেলোসির্যাপ্টর ও টির্যানোসেরাস রেক্স অবলুপ্ত হওয়ার পর এই ভয়াল পাখি অ্যান্ডালগ্যালর্নিস-ই দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বিপজ্জনক পরভোজী জীব হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে দাবি করেন জীবাশ্মবিদরা৷

প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি বছর ধরে প্রথমে দক্ষিণ ও পরে উত্তর আমেরিকার জীবকূলের ওপর দাপটের সঙ্গে শাসন করার পর আজ থেকে মাত্র ২৫ লাখ বছর আগে হঠাত্‍ই বিলুপ্ত হয়ে যায় এই মাংসাশী পাখির দল৷ একশ’ বছরেরও বেশি আগে দক্ষিণ আমেরিকায় প্রথম এই প্রজাতির পাখির জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়৷ কিন্ত্ত এখনো ‘ভয়াল পাখি’র রহস্য ঠিকমতো ভেদ করতে পারেননি বিজ্ঞানীর দল৷

এ পর্যন্ত এই পাখির প্রায় ১৭টি প্রজাতির কথা জানতে পারা গেছে। এদের ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোগ্রামের মধ্যে থাকতো৷ পায়ের গঠন দেখে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, উচ্চতা মানুষের সমান এবং ওজন যথেষ্ট বেশি হলেও এই প্রজাতির পাখি অত্যন্ত দ্রুতগামী ছিল৷ তবে ডানার মাপ ছোট হওয়ার জন্য এরা উড়তে পারত না৷ প্রধানত পায়ের জোরে শিকারের পাশে পৌঁছে ঠোঁটের এক ঘায়েই তাদের হত্যা করতো এরা৷

বিজ্ঞানীরা বলছেন, দক্ষিণ আমেরিকার স্তন্যপায়ী জীবরা প্রধানত তৃণভোজী ছিল৷ ফলে অ্যান্ডালগ্যালর্নিসের প্রতিযোগী হিসেবে উঠে আসেনি কোনো জীবই৷ তাহলে কীভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেল ভয়াল পাখি? গত একশ’ বছর ধরে তারই জবাব খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা৷ সূত্র : ইন্ডিয়ান টাইমস