মেইন ম্যেনু

সাড়ে ৪ ঘণ্টার ব্যর্থ বৈঠক, ধর্মঘট চলবে

জাতীয় বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণ, নিয়োগপত্র প্রদানসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত নৌযান শ্রমিকদের সঙ্গে মালিক ও সরকারের বৈঠক কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। পণ্যবাহী জাহাজের ধর্মঘট চলবে।

শনিবার রাজধানীর শ্রম ভবনে বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত এ সভা শেষ হয় রাত সাড়ে ৯টায়।

সভায় ধর্মঘট স্থগিতের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বার বার অনুরোধ জানানো হয়। মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে কোন সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় নৌযান শ্রমিক নেতারা মন্ত্রীর এ প্রস্তাবে রাজি হননি। শ্রমিক নেতাদের আচরণে সভায় মন্ত্রী কয়েক দফা উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর অনুরোধে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্মঘট স্থগিতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেন নৌযান শ্রমিকরা। এছাড়া দাবিগুলো পূরণের বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে সভায় সরকারের পক্ষ থেকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক। এটা মালিকরাও স্বীকার করেছে। এখন প্রশ্ন হল যৌক্তিকতাটা আমরা কোন জায়গায় নিয়ে আসব। এজন্য আলোচনা করা প্রয়োজন, সময়ও প্রয়োজন। আগামী ১০ মে পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছি। তারা ২৪ ঘণ্টা সময় নিয়েছেন।’

সভা শেষে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয়ের মতে মজুরি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে সময় প্রয়োজন। মজুরি নির্ধারণে মালিক ও আমাদের প্রস্তাবের মধ্যে অনেক দূরত্ব রয়েছে। মন্ত্রী একটি কমিটি করে দিয়েছেন, এ কমিটি মজুরি নির্ধারণে মালিক ও শ্রমিকদের সহায়তা করবে। প্রতিমন্ত্রী আগামী ১০ মে পর্যন্ত সময় চেয়েছেন। আমরা আন্দোলনরত সব পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর আন্তরিক চেষ্টা করব।’

সংগঠনের সভাপতি শাহ আলম ভূইয়া বলেন, ‘সভায় আমরা কোন সমঝোতায় আসতে পারিনি। ধর্মঘটের বিষয়ে আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাব। আশা করি পজেটিভ (ইতিবাচক) সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।’

বিভিন্ন দাবি আদায়ে সারাদেশে পণ্যবাহী, যাত্রীবাহী, তেলবাহী, বালুবাহী সব নৌযানের শ্রমিকরা গত বুধবার (২০ এপ্রিল) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ধর্মঘট পালন করে আসছে। এরমধ্যে যাত্রীবাহী নৌযান ধর্মঘট শুক্রবার মধ্য রাত থেকে আগামী ১০ মে পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

সভায় বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।

মালিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সভায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থার (লঞ্চ মালিক সমিতি) প্রধান উপদেষ্টা মো. গোলাম কিবরিয়া টিপু, বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বাদলসহ বাংলাদেশ অয়েল ট্যাংকার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাবিবুল আলম, কোস্টাল শিপ ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির শীর্ষ নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

তবে সভা শেষে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।

সভা সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিকরা বর্তমান মূল বেতনের ২০ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানালেও মালিকরা ৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়। শ্রমিকরা মালিকদের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

সভায় দু’পক্ষ অনড় অবস্থানের এক পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী শ্রমিক নেতাদের ১০ মে পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত করার অনুরোধ জানান। প্রতিমন্ত্রী কথা বলার সময়ই একজন শ্রমিক নেতা নেতিবাচক মাথা নাড়াতে থাকেন। সভা সূত্রে জানা গেছে, এতে সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে যান মুজিবুল হক।

তিনি বলেন, ‘আপনারা পেয়েছেনটা কি? ভাবছেন সরকার দুর্বল? যা খুশি তাই করবেন। আমি সরকারের প্রতিনিধি। এটা আপনারা করতে পারেন না।’

ধর্মঘট স্থগিতে প্রতিমন্ত্রীর বার বার অনুরোধে এরপরও সাড়া না দেওয়ায় আরেক দফা উত্তেজিত হয়ে পড়েন মুজিবুল হক। তিনি বলেন, ‘সরকার যেভাবে পারে সেভাবেই পণ্য খালাস করবে। আমাকে সে জায়গায় নিয়ে যাবে না। আমি তো আপনাদের কো-অপারেশন করতে চাই।’

নৌযান শ্রমিকদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে- উৎসব ভাতা প্রদান, গেজেটের মাধ্যমে ছুটি ঘোষণা, নৌযানে সন্ত্রাস চাঁদাবাজী-ডাকাতি-অপহরণ বন্ধে পদক্ষেপ, সরকারি ব্যবস্থাপনায় কল্যাণ তহবিল ও প্রভিডেন্ট ফান্ড গঠন, সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে পদক্ষেপ, নৌযান চলাচলে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, লাইটারেজ জাহাজের শ্রমিকদের শতভাগ খোরাকী ভাতা ও ঝুঁকি ভাতা প্রদান ইত্যাদি।