মেইন ম্যেনু

সাড়ে ৮ লাখ ক্ষুদে শিক্ষার্থী ৮০০ কোটি টাকার মালিক

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলছে দেশ, দেশের অর্থনীতি। সেই সঙ্গে অর্থনীতির মূল স্রোতে বাড়ছে মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ। সেই স্রোতে পেছিয়ে নেই স্কুলের শিশু-কিশোররাও। এখন তারা মাটির হাড়িতে নয় টাকা রাখছে ব্যাংকে। যার নাম দেয়া হয়েছে স্কুল ব্যাংকিং।

ধারণাটি এসেছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকেই। বাস্তবায়নটাও করেছে তারাই। সঞ্চয়ের মনোভাব নিয়ে বড়দের সঙ্গে স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও ব্যাংকিংয়ের আওতায় আসুক এমন ধারণা থেকেই কাজ শুরু হয়েছিল। ২০১০ সালে সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করতে ‘স্কুল ব্যাংকিং’ কার্যক্রম শুরু হলেও স্কুলের শিক্ষার্থীরা টাকা জমা রাখার সুযোগ পায় ২০১১ সাল থেকে।

আর প্রথম বছরেই দেশজুড়ে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা ব্যাংকগুলোতে ৩০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা জমা রাখে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ (জুন ২০১৫) তথ্য মতে, ব্যাংকিং হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ৮ লাখ ৫২ হাজার শিক্ষার্থী। যাদের জমাকৃত টাকার পরিমাণ প্রায় ৮শ কোটি। যা দিয়ে দু’টি ব্যাংক খোলা সম্ভব বলে দাবি কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আরো জানা যায়, ২০১০ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক স্কুল ব্যাংকিংয়ের জন্য তথ্য ও নিয়মাবলী জানিয়ে একটি নোটিশ জারি করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল সঞ্চয়ের মাধ্যমে স্কুলের শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়া। যে হিসাবের মাধ্যমে এখন শিক্ষার্থীরা শুধু টাকাই জমাচ্ছে না, তাদের স্কুলের বেতন ভাতাও পরিশোধ করতে পারছে। নিজের একটি হিসাব থেকে স্কুলের বেতন পরিশোধ করা মানে পূর্ণভাবে একজন মানুষ ব্যাংকিংয়ের মূলধারার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যাওয়া।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ের অভ্যাসে উৎসাহিত করতে আমরা বিশেষ এই ব্যাংকিং চালু করেছিলাম। প্রথম দিকে কিছুটা কম থাকলেও ক্রমান্বয়ে এই কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। এখন তারা স্কুলের বেতন দিতে পারছে এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে।’

তিনি আরো জানান, শুরুতে ১০ টাকা দিয়ে হিসাব খোলা হলেও পরে এই হিসাব খুলতে ১০০ টাকা জমা রাখতে বলা হয়। এসব হিসাব চলতি হিসাবেও রূপান্তরের সুযোগ আছে। কোনো কোনো ব্যাংক আলাদা কাউন্টার বা ডেস্ক খুলে শিক্ষার্থীদের জন্য এ সেবা দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানা যায়, দেশের মোট জনসংখ্যার বড় একটা অংশ স্কুল শিক্ষার্থী। স্কুল ব্যাংকিং বা স্টুডেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় ‘ইয়ং স্টার’ ‘ফিউচার স্টার’ ইত্যাদি উদ্দীপনাসূচক নামে ব্যাংকগুলো চালু করে আকর্ষণীয় স্কিম। যেখানে অত্যন্ত সহজ শর্তে খোলা যায় শিক্ষার্থীদের নিজের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।

এই স্কিমের আওতায় যে কোনো শিক্ষার্থী এক কপি ছবি, স্কুলের আইডি কার্ড ও নামমাত্র টাকা দিয়ে যে কোনো ব্যাংকের যে কোনো শাখায় খুলতে পারে সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা সঞ্চয়ী হিসাব। ছয় থেকে ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীরা স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খুলতে পারবে। শিক্ষার্থীদের পক্ষে পিতা-মাতা বা আইনগত অভিভাবক হিসাবটি পরিচালনা করবেন। সাধারণ হিসাব খুলতে যেমন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো ফরম রয়েছে, সঙ্গে আছে একটি গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) ফরম। সেগুলো পূরণ করতে হয় এতে।

শিক্ষার্থীদের জন্ম নিবন্ধন সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে। টাকা তুলতে পারবে নমিনি হিসাবে থাকা বাবা অথবা মা। তবে স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেট টেলার মেশিন) লেনদেনের জন্য এটিএম কার্ডও নিতে পারে শিক্ষার্থী। তার জন্য অবশ্য নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় রাখতে হবে শিক্ষার্থীকে। আর ১৮ বছর বয়স হলে সব শিক্ষার্থীই টাকা তুলতে পারবে। হিসাবগুলোয় সরকারি ফি ছাড়া অন্য কোনো সেবা মাশুল ব্যাংকগুলো নেয় না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, সম্প্রতি স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলা এবং তাতে অর্থ জমা করার প্রবণতা বেড়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের হিসাবের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৫২ হাজার। মার্চ শেষে এই সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৮। গেল ডিসেম্বরের শেষে এই সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার। চলতি বছরের জুন শেষে ক্ষুদে সঞ্চয়ীদের ব্যাংকে জমা পড়েছে প্রায় ৮শ কোটি টাকা। মার্চ পর্যন্ত ক্ষুদে সঞ্চয়ীদের ব্যাংকে জমা ছিল ৭৫৬ কোটি টাকা। গেল ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব হিসাবে জমা ছিল ৭১৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলা ও জমার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খুলতে নতুন ব্যাংকগুলোও এখন পিছিয়ে নেই।