মেইন ম্যেনু

সিডিউল ফাঁসানোর অভিযোগে অভিযুক্ত তারা

নাটক কিংবা সিনেমায় কাজ করতে গেলে প্রত্যেক নির্মাতাকে আগেই শুটিংয়ের দিনক্ষণ ঠিক করে শিল্পীদের সিডিউল নিতে হয়, এটাই নিয়ম। মৌখিক কিংবা লিখিত যাই হোক না কেন, সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে গেলে সিডিউল ঠিক করতেই হবে। কিন্তু যদি না মেলে শিল্পী কিংবা কলাকুশলীর সিডিউল? বরবাদ হয় প্রযেক্ট- শ্রম, টাকা এবং অনেকের সময় নষ্ট হয় মুহুর্তেই। সিডিউল ঘটিত নানা দুর্যোগের অভিযোগ প্রায়শই আসে নির্মাতাদের কাছ থেকে, সংবাদ মাধ্যমেও শুরু হয় ঝড়। কারণ তারকা নির্মিত এই ঝড়ের নাম ‘সিডিউল ফাঁসানো’।

সিডিউল ফাঁসিয়ে সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন অনেক তারকাই। এ তালিকায় শীর্ষে যারা অবস্থান করেন সব সময় তারা হলেন সারিকা, শখ, রুমানা, মেহজাবিন। এছাড়া মাঝে মাঝে এ তালিকায় যারা চলে এসেছে ডা:এজাজ, ঈশানাসহ আরো অনেকেরই নাম। সম্প্রতি ফিল্মপাড়ায় গুঞ্জন উঠেছে, হালের আলোচিত নায়িকা পরিমণী নাকি সিডিউল ফাঁসিয়ে কোনো এক এমপি’র বাসায় ডিনার করেছেন। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে বেগবান হয়েছে খবরটির মাত্রা।

সিডিউল ফাঁসানো শব্দটি শুনলেই সবার আগে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। আসবে নাই বা কেন? শিল্পীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগের প্রচারটাই হয় বেশি। এই অভিযোগের তালিকায় নারী শিল্পীরাই বেশি। তাও আবার ঘুরে ফিরে হাতে গোনা কয়েকটি নাম। এক সময়ের হার্টথ্রব মডেল-অভিনেত্রী সারিকার বিরুদ্ধেই সিডিউল ফাঁসানোর অভিযোগটা বেশি, যদিও আজ মিডিয়াতে অনুপস্থিত তিনি। এমনও দেখা গেছে, সিনিয়র শিল্পীদের নিয়ে টানা দু’দিন অপেক্ষা করেও সারিকাকে না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে পরিচালককে। অথচ ওই নাটকের মূল কাস্টিংই ছিলেন সারিকা। বিষয়টি নিয়ে কখনও মাথা ঘামানোরও প্রয়োজন মনে করেননি।

বিভিন্ন তারকা শিল্পীদের বিরুদ্ধে প্রায়শই সিডিউল ফাঁসান বলে অভিযোগ করেন নির্মাতারা, কিন্তু কোনো লিখিত অভিযোগ করতে চান না তারা। কারণ একটাই, শিল্পী সংকটের এ সময়ে তাদের নিয়েই পরবর্তীতে কাজ করতে হয় নির্মাতাদের। এক্ষেত্রে রেদোয়ান রনি ব্যতিক্রম কাজ করেন। অনেকের সিডিউল ফাঁসিয়ে মডেল-অভিনেত্রী শখ বেঁচে গেলেও বাঁচতে পারেননি এই তরুণ নির্মাতার হাত থেকে। ‘পরিবার করি কল্পনা’ ধারাবাহিক নাটকে রনিকে সিডিউল দিয়ে সেটে যাননি শখ। গণমাধ্যমের কাছে এই অন্যায়ের কথা লিখিতভাবে প্রকাশ করেছিলেন রনি। আরেক অভিনেত্রী রুমানা তো শুটিং স্পটে থেকেই পালিয়ে গিয়েছিলেন এমনও সংবাদ প্রকাশ হয় গণমাধ্যমে। অন্যরাও কম-বেশি সিডিউল ঘাপলা করে থাকেন। কিন্তু সেটা আড়ালে-আবডালেই রয়ে যায়।

চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে সিডিউল ফাঁসানোর বিষয়টি একটু ব্যতিক্রম। তারা সরাসরি সিডিউল ফাঁসান না। কাউকে দেয়া সিডিউলের মাঝে অন্য নির্মাতার কাজও একসঙ্গে করে থাকেন। এক্ষেত্রে আগে শুটিং শুরু করা পরিচালককে এক কিংবা দু’দিন অযথাই বসে থাকতে হয়। চিত্রনায়িকা শাবনূর সুবর্ণ সময়ে এ কাজটি বহুবার করেছেন। অন্যসব নায়িকারাও সব সময় না হলেও দু-একবার এভাবে সিডিউল ফাঁসানোর স্বাদ নিয়েছেন। হাল আমলের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খানের বিরুদ্ধে এভাবে সিডিউল ফাঁসানোর অভিযোগ পাহাড়সম। তবে কাজ দিয়ে পুষিয়ে দেন বলে এ নিয়ে কেউ উচ্চবাচ্য করেননি কখনও।

এ তো গেল শিল্পীদের কথা। অভিনয় শিল্পীরা যখন সিডিউল ফাঁসায়, তখন চারিদিকে নানা কথার ঝড় উঠে। কিন্তু প্রশ্ন হল, শুধু কি শিল্পীরাই সিডিউল ফাঁসান। নির্মাতাও যে শিল্পীদের কাছ থেকে সিডিউল নিয়ে শুটিং করেন না, সেই তালিকাও নেহাত কম নয়। এক্ষেত্রে চলচ্চিত্রের চেয়ে নাটকের শিল্পীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন বেশি। কারণ চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে সিডিউল নিলে লিখিতভাবে নিতে হয়। নাটকে সেটা বাধ্যতামূলক নয়। মৌখিক সিডিউল নিয়েই নাটকের শুটিং শুরু হয়। অন্যদিকে চলচ্চিত্রে সাইনিং মানির বিষয়ও রয়েছে। যেটা নাটকে নেই। শুটিং শেষে স্পটে বসেই পারিশ্রমিক পরিশোধ করার রেওয়াজ নাটকে। এই কারণে নাটকের শিল্পীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন বেশি।

যেই সিডিউল ফাঁসান না কেন, ফলাফল একটাই, সবার ক্ষতি। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার জালে বন্দি মিডিয়া সংশ্লিষ্টরা কেন এই সমস্যার প্রতিকার করা হয়নি? কিংবা কীভাবে উত্তরণ সম্ভব? মজার বিষয় হল, যারা বেশি শিডিউল ফাঁসায় তারাই টিভি চ্যানেলের চাহিদায় থাকেন। চ্যানেল কর্তৃপক্ষ তাদের নাটক বেশি দামে কিনতে আগ্রহী। তাই চাইলেই বিচার করা সম্ভব হয় না। কিন্তু সমস্যার সমাধান তো করতে হবে। কথা হচ্ছে, বিড়ালের গলায় ঘন্টাটা বাঁধবে কে?