মেইন ম্যেনু

সিধ কেটে বিমাতা বোনকে এসিডে ঝলসে দিলো ভাই-ভাতিজা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যা চেষ্টার পর গভীর রাতে ঘরের সিধ কেটে বিমাতা বোনকে এসিডে ঝলসে দিয়েছে ভাই ও ভাতিজারা। ঘটনা ঘটেছে জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের পূর্ব রামখানা তালুকদারপাড়া গ্রামে। এসিডে আহত নারী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলছে। এর আগে ২০০৯ সালে ওই নারীকে হত্যা চেষ্টা করে তারা।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানাযায়, শনিবার ভোররাতে মালেকা বানুর শোবার ঘরের সিধ কেটে ঢুকে প্রবেশ করে তার বিমাতা ভাই হায়দার আলী, তার দুই ছেলে দুলাল হোসেন ও মিঠু, বোন জামাই গাজীউর রহমান মাস্টার, ফুফাত ভাই রুহুল আমিন। এ সময় টের পেয়ে ঘুম থেকে জাগনা হলে হায়দার আলী মালেকার মুখ চেপে ধরে টেনে হিচরে বিছানা থেকে টেনে মেঝেতে নামিয়ে তাকে চেপে ধরে। পরে দুলাল ও গাজী তার দুই হাত চেপে ধরে। হায়দার বোতল থেকে তরল এসিড তার শরীরে ঢেলে দেয়।

এ সময় দরজায় পাহারা দিচ্ছিল মিঠু ও রুহুল আমিন। শরীরে এসিড পড়ে পুড়ে যাওয়ায় মালেকা হাত দিয়ে মুখ আলগা করে জোড়ে আতœচিৎকার দিলে সবাই দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। চিৎকার শুনে এলাকাবাসী ছুটে আসে। পরে দীর্ঘক্ষণ পুড়ে যাওয়া শরীরে পানি ঢেলে সকালে তাকে থানায় নিয়ে আসলে পুলিশ তাকে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে পাঠায়।

মালেকা বানু বলেন, ‘তারা যখন ঘরে ঢোকে তখন টের পাই। এ সময় হায়দার মুখ চেপে ধরে মাটিতে নামায়। দুলাল ও গাজী দুই হাত ও পা চেপে ধরে। হায়দার বোতল থেকে পানির মতন জিনিসগুলা ঢালি দেয়। মিঠু ও রুহুল দরজায় ছিল। আমার শরীর যখন পুড়ে যাচ্ছিল তখন জোরে চিৎকার দেই। সবাই পালায়। আমি চিৎকার দিতে থাকি। পরে অনেকে এসে আমার গায় পানি দেয়।’

অনুসন্ধানে জানাযায়, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে হায়দার আলী ও মালেকা বানুর বিরোধ চলে আসছে ২০০৯ সাল থেকে। সে সময় মালেকাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হায়দার আলী বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বাইরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সারা শরীরে আঘাত করে। কুঠার দিয়ে তার দুই পা থেতলে দেয়। দীর্ঘ এক বছর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে ফিওে আসে মালেকা। তার স্বামীর নামও হায়দার আলী। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধি। ছোট দুই ছেলেকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে ঝি’র কাজ করে সংসার চালায় সে। ২০১৩ সালে তার ভাইয়েরা নিজেরা মারামারি করে একজনকে হত্যা করে সে মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়। এভাবেই তাঁর উপর চলছে একর পর এক হয়রানি ও নির্যাতন।

নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জিআরএম মোকসেদুর রহমান জানান, মালেকার শরীরের প্রায় ২৭ ভাগ পুড়ে গেছে। তার উন্নয়ত চিকিৎসার প্রয়োজন। এছাড়া কি ধরণের এসিড ছোড়া হয়েছে তা সনাক্তের উপায় এখানে নেই। এজন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালো পাঠানো রেফার্ড করা হয়েছে।

নাগেশ্বরী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান মনির বলেন, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধে বিমাতা ভাই ও ভাতিজারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানাগেছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ দোষীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছে।