মেইন ম্যেনু

সিনেমায় আর ফিরছেন না সাবানা !

বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানা। দেড় যুগ হলো অভিনয় ছেড়েছেন। কিন্তু দর্শকরা এখনো তাকে ছাড়েননি। ভক্তদের হৃদয়ের মণিকোঠায় রয়েছেন তিনি। দর্শকরা অপেক্ষায় ছিলেন শাবানা আবার পর্দায় ফিরবেন। কিন্তু ফেরেননি। বরাবরই মিডিয়ার আড়ালে থেকেছেন তিনি। তবে মাঝে মাঝেই অমাবশ্যার চাঁদের মতো দেখা মেলে। ১৯৯৭ সালে শাবানা হঠাৎ চলচ্চিত্র থেকে বিদায়ের ঘোষনা দেন এবং নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়া বন্ধ করে দেন। ২০০০ সালে শাবানা সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে বসবাস শুরু করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রায় এক যুগ পরে শাবানা দেশে ফিরেন ফিলেছিলেন ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে। শ্বশুর বাড়ি কেশবপুরের বড়েঙ্গা গ্রামে নিজস্ব বসতবাড়ি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য তিনি দেশে ফিরেন। কয়েকদিন থেকে আবার আমেরিকায় পাড়ি জমান। শাবানার খুব ইচ্ছা ছিল বেগম বেগম রোকেয়া চরিত্রে অভিনয় করবেন। সুভাষ দত্ত ছবিটি নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালে মহরতও অনুষ্ঠিত হয়। অল্প কিছু কাজ হলেও সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে অতিরিক্ত বা এক্সট্রা শিল্পী হিসেবে ঢাকার ছবিতে শাবানার আত্মপ্রকাশ হয়। ১৯৬৬ সালে উর্দু ছবি ‘চকোরী’তে রত্না থেকে তিনি হলেন শাবানা। ১৯৬৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত শাবানা বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন।

শাবানা অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে চকোরী (১৯৬৭), জংলী মেয়ে (১৯৬৭), চাঁদ আওর চাঁদনী (১৯৬৭), কুলি (১৯৬৮), একই অঙ্গে এত রূপ (১৯৭০), ওরা এগারোজন (১৯৭২), মুন্না আওর বিজলী (১৯৭২), অবুঝ মন (১৯৭২), মালকা বানু (১৯৭৪), অনেক প্রেম অনেক জ্বালা (১৯৭৫), জীবন সাথী (১৯৭৬), রাজ দুলারী (১৯৭৮), বধূ বিদায়(১৯৭৮), কাপুরুষ (১৯৭৮), ফকির মজনু শাহ (১৯৭৮), আয়না (১৯৭৯), চোখের মণি (১৯৭৯), সাথী তুমি কার (১৯৮০), দুই পয়সার আলতা (১৯৮২), লাল কাজল (১৯৮২), বানজারান (১৯৮৩), মরণের পরে (১৯৮৯), কাজের বেটি রহিমা (১৯৯১), স্বামীর আদেশ (১৯৯১), অন্ধ বিশ্বাস (১৯৯২) প্রভৃতি। শাবানা তার অভিনীত ছবি প্রচারের যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন তা শাবানার অগনিত দর্শকদের মর্মাহত করবে। তবে এটা নিতান্তই শাবানার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে আমার কোন মন্তব্য নেই।