মেইন ম্যেনু

সিসি ক্যামেরার আওতায় পুরো সদরঘাট

ঢাকা নদী বন্দরে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও গতি বিধি পর্যবেক্ষণের জন্য ১৪টি পয়েন্ট ৩০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়া সদরঘাট নৌ-টার্মিনাল এলাকায় পকেটমার, অজ্ঞানপার্টি এবং ছিনতাইকারী যেন ঘোরাঘুরি না করতে না পারে সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনও তৎপর রয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ( বিআইযব্লিউটিএ) সূত্রে জানা গেছে, নৌ-বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি পয়েন্টে এবং ৯টি গ্যাংওয়ে ও পন্টুনে এই ৩০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নদীবন্দরের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালকের দপ্তর থেকে একজন কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে এবং অতিরিক্ত যাত্রীদের বিষয়ে আগাম তথ্য দেয়া হবে।

এছাড়া সদরঘাটে বিআইডব্লিউটিএ’র টার্মিনাল ও পন্টুনে ২০টি মাইক স্থাপন করা হয়েছে। এ মাইকের সাহায্যে সার্বক্ষণিক নির্দেশনা দেয়া হবে।

সোমবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সদরঘাট নৌ-বন্দর ঘুরে ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতিটি লঞ্চ সার্ভে, চেক লিস্ট অনুযায়ী সব শর্ত পূরণ করে টার্মিনালের নির্দিষ্ট স্থানে বার্দিং করবে এবং পন্টুনের নির্ধারিত স্থানে লঞ্চ বার্দিং করার জন্য বেসরকারি লঞ্চ মালিকদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে বিআইডব্লিটিএ। মাঝ নদীতে কোনো লঞ্চ নোঙর করে রাখা যাবে না।

জানা গেছে, যাত্রীদের সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা নৌ টার্মিনাল সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সদরঘাট বন্দর দিয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২২টি জেলার যাত্রীরা জাহাজে চলাচল করে। ৪১টি নৌ-রুটে প্রতিদিন স্বাভাবিক সময়ে ৭০ থেকে ৮০টি লঞ্চ চলাচল করে। আর এখন ১০০ থেকে ১২০টি বড় লঞ্চ চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এবার স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ৫০ লাখ যাত্রী চলাচল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে পুরনো ঢাকার লালকুটির ঘাট থেকে চাঁদপুরগামী ২০টি লঞ্চ ছেড়ে যাবে। এ ঘাটে ৫টি পন্টুন বসানো হয়েছে। যাত্রীদের রোদ বৃষ্টির জন্য অস্থায়ী শামিয়ানাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পটুয়াখালীগামী সব লঞ্চ ওয়াইজঘাট থেকে ছেড়ে যাবে বলে বিআইডব্লিটিএ সূত্রে জানা গেছে।

সদরঘাট নৌ-বন্দরের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জয়নাল আবেদীন বলেন, নৌ-পথে গার্মেন্টকর্মী যাত্রী বেশি। এই যাত্রীদের ছুটি হয় ঈদের দুই দিন আগে। ফলে ঈদের আগের দিন চাপ বেড়ে যায়। এই চাপ মোকাবেলায় এবার ঈদের ৫টি নতুন লঞ্চ সংযোজন হবে।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনা মোকাবেলার জন্য বিআইডব্লিউটিএ এর উদ্ধারকারী জাহাজ ও ডুবুরি রাখা হয়েছে। এছাড়া লালকুটিরঘাট থেকে ওয়াইজঘাট পর্যন্ত টার্মিনাল পন্টুনে ফ্যাসিলিটি প্রায় দুই হাজার ফুট দীর্ঘ নদীর তীরে ১৪টি পয়েন্টে যাত্রী প্রবেশ করতে পারবে। ১৩টি গ্যাংওয়ে ও ২১টি পন্টুনের মাধ্যমে যাত্রী জাহাজে উঠতে এবং নামতে পারবে। এসব কারণে আসন্ন ঈদে আমরা ভালোভাবে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরতে এবং ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরে আসতে পারবে।