মেইন ম্যেনু

সীমান্তে ঢুকে গুলি, ৩০ বিএসএফের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

জয়পুরহাটের সদর উপজেলার গ্রামে ঢুকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ৩০ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বিএসএফের গুলিতে নিহত সায়েম উদ্দীনের স্ত্রী আসিদা বেওয়া আজ মঙ্গলবার দুপুরে জয়পুরহাটের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তাজুল ইসলাম মিয়ার আদালতে ওই মামলা করেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর নিতেন্দ্র নাথ মণ্ডল। তিনি এনটিভি অনলাইনকে জানান, বিচারক নিহত সায়েম উদ্দীনের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং এ সংক্রান্ত বিষয়ে থানায় কোনো মামলা হয়েছে কি না তা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় বিএসএফের দুর্গাপুর ৭৫ ব্যাটালিয়নের চার্লি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সিএল প্যাটেল, এসি মি. মিনা, এফএস অনুশ কুমারসহ অজ্ঞাত ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আর্জির সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে জয়পুরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর গ্রামের সীমান্তের ২৭৩/এস নম্বর পিলার সংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি খারিতে (ডোবা) ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সী সাত-আটজন শিশু মাছ ধরছিল।

এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সদস্যরা ওই শিশুদের গালিগালাজ করতে থাকে। শিশুরাও তাদের গালিগালাজ করে। এ সময় উত্তেজিত বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে ঢুকে শিশুদের ধাওয়া করে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর বিএসএফ সদস্যরা আবার বাংলাদেশের ভেতরে জয়পুরহাটের সদর উপজেলার পশ্চিম রামচন্দ্রপুর গ্রামে প্রবেশ করে এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে ওই সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশের অনেক ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং গুলি বর্ষণ করতে থাকলে গ্রামবাসী প্রাণ ভয়ে বাড়ি থেকে পালাতে শুরু করে।

ওই সময় আবদুল বারিকের ছেলে ছায়েম উদ্দীন (৩৬), আনোয়ার হোসেনের ছেলে আবু জাফর বিদ্যুৎ (২১), খালেকুল ইসলামের ছেলে ফারুক হোসেন (২৫), কৃষ্ট মার্ডির দুই ছেলে পরিমল মার্ডি (৩৬) ও র্নিমল মার্ডি (২৯) গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধদের জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পেটে গুলিবিদ্ধ সায়েম উদ্দীনের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে সেখান থেকে তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল পৌনে ৫টার দিকে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।