মেইন ম্যেনু

সীমান্তে নদীপথ দখলে বিএসএফ’র নতুন উদ্যোগ

এতোদিন নদীপথে নজরদারির জন্য ভ্রাম্যমাণ ভেসেলের উপর নির্ভর করতে হতো ভারতের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর (বিএিএফ) সদস্যদের। সেই সঙ্গে কিছু স্পিড বোটেও নজরদারি চালানো হয়। কিন্তু জলপথ সীমান্তের অধিকাংশ এলাকাই কার্যত অরক্ষিত থাকে। আর এ সুযোগে নদীপথেও অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের ঘটনা ঘটে বলে দাবি বিএসএফ’র।

সে কারণেই সীমান্তের নদীপথ দখলে নিতে হালকা ওজনের অ্যালুমিনিয়াম পাতের ভাসমান ফেন্সিং তৈরি করছে তারা। আপাতত বসিরহাটের ঘোজাডাঙায় ইচ্ছামতী নদীর উপর এই ফেন্সিং দেয়ার কাজ চলছে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সীমান্তের সমস্ত জলপথে এ ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএসএফ কর্মকর্তারা।

পশ্চিমবঙ্গের এক সংবাদ মাধ্যমকে বিএসএফ সূত্র জানিয়েছে, নদীপথে সুরক্ষা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা নিয়ে গত এপ্রিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে আংরাইল ছাউনিতে বিএসএফের কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। সেখানেই এই বিশেষ ফেন্সিং নিয়ে আলোচনা হয়। এরপরই কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ মুহূর্তে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রায় ৩৮৪ কিলোমিটার নদীপথ রয়েছে। গত কয়েকবছরে ওই নদী পেরিয়েই গরু, সোনার পাচার ব্যাপক হারে হচ্ছে। মুর্শিদাবাদ জলঙ্গিতে বেড়েছে গরু পাচার। সেই কারণেই হালকা ওজনের ফেন্সিং তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সেন্ট্রাল পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট এ কাজ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে বসিরহাট ঘোজাডাঙা এই প্রকল্পের কাজ শুরু করে দিয়েছে।

জানা গেছে, সুন্দরবন এলাকায় নদীর পানি নোনা থাকায় অ্যালুমিনিয়াম শিটের এই ফেন্সিং তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। নদীর নীচে কংক্রিটের পিলার হচ্ছে। সেখানে ওই অ্যালুমিনিয়ামের শিট বসিয়ে ফেন্সিং তৈরি করা হবে। ফেন্সিং অর্ধেক পানির নীচে থাকবে আর অর্ধেক থাকবে বাইরে। যা পার হয়ে কোনো নৌকাই আর ওপারে যেতে পারবে না বলে দাবি বিএসএফ’র। ফলে নৌকায় করে আর গরু আনা সম্ভব হবে না।

বিএসএফ’র দাবি, পশ্চিবঙ্গের স্বরূপনগর, বসিরহাটের ঘোজাডাঙা, হাসনাবাদ, মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি ও মালদহের কালিয়াচক পাচারের বড় রুট। এর মধ্যে মালদহ এবং উত্তর ২৪ পরগণা জেলার অধিকাংশ জেলার নদীপথ দিয়েই চোরাচালান হয়। চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ রুখতে সুন্দরবন এলাকায় সীমান্তে তিনটি ভ্রাম্যমাণ চেকপোস্ট তৈরি করা হয়েছে। আরো কয়েকটি চেকপোস্ট তৈরি হবে ওই এলাকায়।