মেইন ম্যেনু

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

সুদের টাকা আদায়ের নামে এএসআই’র বিরুদ্ধে চোখ বেধে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ ব্যবসায়ীর

সুদখোরের পক্ষে টাকা আদায়ের নামে এক ব্যবসায়ীকে রাত ভোর চোখ বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগ গত রবিবার রাতে কলারোয়ার সরসকাটি পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই লিটন বিশ্বাস ও কনষ্টেবল অহিদুজ্জামান তাকে দোকান থেকে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে তার স্ত্রীর সামনে নির্যাতন করেন।
এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নির্যাতিত কলারোয়া উপজেলার ওফাপুর গ্রামের মনির উদ্দীন বিশ্বাসের ছেলে গোলাম রসুল বিশ্বাস (৩৪)।
তিনি জানান, উপজেলার সরসকাটি বাজারে তার খাদ্য খাবারের হোটেল ব্যবসা আছে। আর্থিক অনাটনের কারনে গত নয়মাস পূর্বে তিনি পার্শ্ববর্তী যশোরের কেশবপুর উপজেলার গোপসেনা গ্রামের সুদখোর আব্দুর রহিমের নিকট থেকে মাসিক ছয় হাজার টাকা সুদে ৫০ হাজার টাকা গ্রহন করেন। নয় মাসে সুদ হিসাবে ৫৪ হাজার টাকা পরিশোধ করার পর সম্প্রতি সে তার আসল ৫০ হাজার টাকা এক কালীন পরিশোধ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এক সাথে এত টাকা দিতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। গত রবিবার সন্ধ্যায় সুদখোর আব্দুর রহিমের এজেন্ট পুলিশ ক্যাম্পের স্থানীয় দুই দালাল তাকে টাকা না দিয়ে হয়রানী করার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে ওই দালালরা মোবাইল ফোনে ক্যাম্পের এ এস আই লিটন বিশ্বাস ও কনষ্টেবল অহিদুজ্জামান তাকে হোটেলের সামনে থেকে টেনে হিছড়ে ধরে নিয়ে যায়। পরে তার দুই চোখ বেঁধে ক্যাম্পের সামনের আলো নিভিয়ে দিয়ে কাঠের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে জখম করে। এসময় তাকে রক্ষা করতে তার স্ত্রী খালেদা খাতুন এএসআই লিটনের পা জড়িয়ে ধরে মারপিট না করার জন্য অনুরোধ করলে লিটন ও অহিদুজ্জমান লথি মেরে পুকুরের ধারে ফেলে দেয়।
তিনি আরো জানান, রাত ভোর তার চোখ বেঁধে নির্যাতন করার পর ভোর রাতে একটি সাদা কাগজে সহি স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এসময় এএসআই লিটন আগামী ১০ দিনের মধ্যে ওই সুদখোরের টাকা পরিশোধ না করলে তার হোটেলটি বন্দ করে সিল গালা করে দেয়াসহ বিভিন্ন হয়রানী মূলক মামলায় জড়িয়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করেন।
ভূক্তভোগী গোলাম রসুল তার স্ত্রী খালেদা খাতুনের উপস্থিতিতে লিখিত বক্তব্যে নির্যাতনকারী এএসআই লিটন বিশ্বাস কনষ্টেবল ওহিদুজ্জামানসহ স্থানীয় দালালদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামানা করেছেন।