মেইন ম্যেনু

সুন্দরগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি

মোঃ নুরুল আলম ডাকুয়া, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, নদ-নদীর পানি কমে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে।

হরিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরের বানভাসি মানুষের তথ্য মতে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি গত ২৪ ঘন্টায় ১২ সেন্টিমিটার কমেছে। তবে এখন বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বন্দি মানুষের সংখ্যা লক্ষাধিক হলেও দুর্গতদের মাঝে বিতরণকৃত ত্রাণ অপ্রতুল হওয়ায় বিতরণকারীরা বিপাকে পড়েছেন।

শনিবার পর্যন্ত দুর্গত মানুষের মাঝে পরিবার প্রতি ১০ কেজি হিসেবে সরকারীভাবে ১শ মেট্রিকটন চাল ও ১ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণকৃত ত্রাণ সামগ্রী প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এদিকে নদী-নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় বন্যা দুর্গত আশ্রীত মানুষরা তাদের গবাদিপশুসহ অন্যান্য সম্পদ নৌ-ডাকাতের হাত রক্ষার জন্য রাত জেগে পালাক্রমে পাহাড়া বসিয়েছেন প্রশাসনিক ভাবে পাহাড়ার ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় লাল মিয়ার পুত্র সফিকুল ইসলাম, কাজিম উদ্দিনের পুত্র নয়া মিয়া, জব্বারের পুত্র আমির উদ্দিন, আক্কাস ও ঢেলু শেখের পুত্র জলিল সহ অনেকেই ডাকাতের হাত থেকে বাঁচার জন্য রাত জেগে পালাক্রমে পাহাড়া দিচ্ছে।

গত কয়েক দিন ধরে বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে খাদ্য, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানিয়জলের তীব্র সংকট। এলাকাগুলো হচ্ছে- হরিপুর, তারাপুর, বেলকা, কাপাসিয়া, শ্রীপুর কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের চরাঞ্চরের লক্ষাধিক পানিবন্দি মানুষ অবর্ননীয় দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে জীবন-যাপন করছেন। বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে দুর্গতরা আশ্রয় নিলেও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা নাজুক, তাই আশ্রীত এলাকাগুলোয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে।

এছাড়া দুর্গত মানুষ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উচু স্থানগুলোতে পশু-পাখিসহ সহাবস্থান নিয়ে অবর্ননীয় দুর্ভোগের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। এতে করে তারা পানিবাহীত রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ পর্যন্ত বন্যা দের চিকিৎসার জন্য কোন মেডিকেল টিম দুর্গত এলাকা গুলোতে পৌছেনি। বন্যার পানিতে মাঠ-ঘাট, টই-টুম্বর হওয়ায় গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থা চলতে থাকায় গবাদি পশুগুলো জিন্ন-শিন্ন হয়ে পড়েছে। হরিপুর ইউনিয়নের গেন্দুরাম গ্রামের মৃত কজিম উদ্দিনের স্ত্রী আকলিমা বেওয়া (৯০), মৃত হায়দারের স্ত্রী রহিমা (৬৫), মৃত কাজিম উদ্দিনের স্ত্রী হাজিরান বেওয়া(৭০), আজিজার রহমানের পুত্র আমিন হোসেন (৪০), করিমের পুত্র নুরুল ইসলাম (৫০), জব্বারের স্ত্রী আমিরন বেওয়া (৭৫), আবুল হোসেনের পুত্র শামিম (৫০), মৃত জামিউলের স্ত্রী আকলিমা (৫৫), মৃত জলিলের স্ত্রী হালিমা বেওয়া (৮০), মৃত করিমের স্ত্রী আয়শা বেওয়া (৬০), আহম্মদের স্ত্রী মমেনা বেওয়া (৫৫) সহ এখানে প্রায় ৪০- ৫০টি পরিবার রয়েছে।

গেন্দুরাম আবাসন প্রকল্পের বসবাসকারী খালেক, ছামিউল, আকবর, আওয়াল, আনছার ও হরিপুর আবাসন প্রকল্পে বসবাসকারী সফিকুল, মঞ্জু, ছফিয়াল, আশরাফুল ও রফিকুল ইসলামসহ আনেকেই জানান তারা পর্যাপ্ত ত্রান সামগ্রী না পাওয়ায় অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। বানভাসী এসব দূর্গত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা অতিব জরুরি। সরকারী হিসাব মতে প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৫শ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে বলে তালিকা করা হলেও বাস্তবে তা ছাড়িয়ে যাবে।