মেইন ম্যেনু

‘সুন্দরবন বাঁচাও’ সাইকেল মিছিল কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের বাধা!

রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদে আয়োজিত সাইকেল মিছিল কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিলটি শুরু হওয়ার সময় ছাত্রলীগ পুরো শহীদ মিনার এলাকা ঘিরে রাখে। তারা আন্দোলনকারীদের অবরুদ্ধ করে রাখে। তবে ছাত্রলীগ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের ধ্বস্তাধ্বস্তির ঘটনাও ঘটেছে। ছাত্রলীগ জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়ানো তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ বন্দর ও খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদকেও ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়।

‘সুন্দরবন বাঁচাও সাইকেল মিছিল’ এর সমন্বয়ক সামান্তা শারমিন বলেন, ‘মিছিল শুরুর সময়ই ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ মানববন্ধন শুরু করে। তারা শহীদ মিনার ঘিরে রেখেছে। শহীদ মিনার থেকে নেতা-কর্মীদের বের হতেও তারা বাধা দিচ্ছে। আমরা এখন অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছি।’

এদিকে সুন্দরবন বাঁচানোর দাবিতে আয়োজিত সাইকেল মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করে ছাত্রলীগ শহীদ মিনারে একটি মানববন্ধন করছে। ছাত্রলীগের মানববন্ধনের ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘আমরা রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চাই।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে একটি মিছিল নিয়ে তারা শহীদ মিনারে আসে।

‘রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চাই’ ব্যানারে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে পূর্ব নিধারিত কর্মসূচি ছিল। সে অনুযায়ীই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সুন্দরবন থেকে ৬০-৬১ কিলোমিটার দূরে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে, এতে বনের কোনও ক্ষতি হবে না।’

ঢাবি মহসীন হলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান বলেন, ‘আমরা রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে। এখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন করছি। এই কর্মসূচি আগেই আমরা ঘোষণা করেছিলাম। সে অনুযায়ী এখানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রুম্মন হোসেন বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবনের কোনও ক্ষতি হবে। আমরা চাই এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হোক। এখানে আমরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করছি। কিন্তু যারা রামপালের বিরোধিতা করছে, তারাই গায়ে পড়ে এসে ঝামেলা করার চেষ্টা করছে। আমাদের কর্মসূচি পণ্ড করার জন্য তারা ধাক্কাধাক্কি করছে।’

শাহাবাগ থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘এখানে দুই পক্ষই তাদের নিজ নিজ দাবি নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। আমরা কাউকেই বাধা দিচ্ছি না। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তাদের নিরাপত্তা দেওয়া। যারা যেদিকে যেতে চাইবে প্রটোকল দিয়ে তাদের সেদিকে নিয়ে যাওয়া হবে। আমাদের পক্ষ থেকে কোনও বাধা নেই। তবে এখানে অনুষ্ঠান করার জন্য দুইপক্ষের কেউই শাহাবাগ থানার অনুমতি নেয়নি। তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছে কী না সে বিষয়টি জানা নেই।’

এর আগে সকাল ৯টা থেকে সুন্দরবন বাঁচানোর দাবিতে সাইকেল নিয়ে শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। ফেসবুকে খোলা একটি ইভেন্ট সাড়া দিয়েই সুন্দরবন বাঁচানোর দাবিতেই র‌্যালিতে যোগ দিতে আসেন তারা।

প্রসঙ্গত, সুন্দরবন বাঁচানোর দাবিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ নানা পেশাজীবীরা এই সাইকেল মিছিলের আয়োজন করে। মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে মোহাম্মদপুর, সংসদ ভবন, ফার্মগেট, শাহবাগ হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিলো। তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ বন্দর ও খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ও শিল্পী কফিল আহমেদের মিছিলটি উদ্বোধনের কথা ছিল।