মেইন ম্যেনু

সুস্থ কিডনি সুস্থ শরীরের চাবিকাঠি

কিডনির সমস্যাগুলো চট করে ধরা পড়ে না৷ তাই এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ দু’টিকে এবং গোটা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাবধান হতে হবে আগে থাকতেই৷

আমাদের শরীরের যেসব গুরুত্বপূর্ণ অরগ্যান বা অঙ্গ রয়েছে, তাদের মধ্যে কিডনি হলো অন্যতম৷ কিডনি বিকল হলে শরীরও একদিক থেকে বিকল হয়ে গেলো বলতে হবে৷ কারণ, কিডনি আমাদের শরীরের বর্জ্য পদার্থ, রক্ত থেকে বের করে দিয়ে ব্লাড পিউরিফিকেশনে সাহায্য করে৷ ফলে আমাদের শরীর টক্সিনমুক্ত থাকতে পারে, এবং আমাদের সামগ্রিক শারীরিক সিস্টেম ঠিকমতো কাজ করতে পারে৷ শুধু তাই নয়, কিডনি আমাদের শরীরের জলের সমতাও রক্ষা করে৷ তাছাড়া কিডনি আমাদের শরীরে বেশ কয়েকটি দরকারি হরমোনও তৈরি করতে সাহায্য করে৷ এই হরমোনগুলো আমাদের শরীরে নানা উপকারে লাগে৷ যেমন ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে৷ শুধু তাই নয়, এই হরমোনগুলো আমাদের শরীরে লোহিত কণিকা তৈরি করে, যা আমাদের সুস্থ শরীরের জন্য অনিবার্য৷ আবার ভিটামিন ডি-কে আরও সক্রিয় করে আমাদের হাড় মজবুত করতেও এই হরমোনগুলো সাহায্য করে৷ সুতরাং বুঝতেই পারছেন, সুস্থ থাকতে কিডনি কতটা জরুরি৷ তাই এই অঙ্গটিকে কোনও মতেই দুর্বল করে দেওয়া যাবে না৷

তবে কিডনিকে সুস্থ রাখতে হলে, একটা হেলদি লাইফ স্টাইলও বজায় রাখতে হবে৷ কিন্তু সমস্যা হলো, যে শরীরের অন্যান্য অঙ্গগুলোতে কোনও সমস্যা দেখা দিলে যেমন চট করে বোঝা যায়, কিডনির ক্ষেত্রে কিন্তু তেমনটা নয়৷ কিডনিতে কোনও সমস্যা দেখা দিলে, তা বহুদিন পর্যন্ত বোঝা যায় না৷ রোগ বা উপসর্গগুলো যখন সংকটজনক অবস্থায় মাথা চাড়া দেয়, তখনই কিডনির সমস্যা ধরা পড়ে৷ এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়, যখন দুটি কিডনিই সম্পূর্ণ ড্যামেজ হয়ে যায়৷ কারণ যে কটি কিডনির রোগ রয়েছে, তাদের প্রায় সব কটিই এক সঙ্গে দুটি কিডনিতেই আক্রমণ হানে৷ ফলে শরীরের টক্সিনমুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, বডি ফ্লুইডের ব্যাল্যান্সও ঠিক মতো রাখা সম্ভব হয় না৷ ফলে শরীর আর সামগ্রিকভাবে সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না৷ তাই কিডনির সমস্যা হচ্ছে, এমন আশঙ্কা যদি বিন্দুমাত্র হয়, তাহলেই আর দেরি না করে চিকিৎসা নেয় দরকার।

কিডনি ভালো রাখতে হলে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন খুব দরকার। কীভাবে অভ্যাস করবেন?

প্রথমেই বলে রাখা ভালো, যাদের হাই ব্লাড প্রেশারের সমস্যা রয়েছে, হার্টের অথবা ডায়াবেটিসের সমস্যায় ভোগেন, তারা আগে থেকে কিডনিসংক্রান্ত বিষয়ে সাবধান থাকুন৷ শুধু তাই নয়, যাদের পরিবারে এর আগে কিডনি ফেলিওর বা কিডনির সমস্যায় ভুগেছেন, এমন ইতিহাস রয়েছে, তাদেরও এই বিষয়ে অতিরিক্ত সচেতন হতে হবে বৈকি৷ যাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে, তারা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা করুন৷ কোলেস্টেরল লেভেলও যাতে ঠিক থাকে, সেই বিষয়েও নজর রাখুন৷

এছাড়াও সামগ্রিকভাবে একটা সুস্থ ও নিয়মমাফিক জীবন যাপন খুব জরুরি৷ একটা হেলদি ডায়েট মেনে চলুন৷ কিডনি দুটিকে ভালো রাখার জন্য আমাদের হার্টও সমানভাবে ভালো থাকাটা খুব জরুরি৷ তাই ডায়েটে এমন খাবার রাখুন যা আমাদের হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে৷ শুধু তাই নয়, খাবারে নুনের মাত্রাও অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া দরকার৷ যদি নিয়মিত অ্যালকোহল নেওয়ার অভ্যাস থেকে থাকে, তাহলে তার পরিমাণ যাতে সীমিত থাকে, সেই বিষয়ে নজর রাখার চেষ্টা করুন৷ অতিরিক্ত অ্যালকোহল কিডনি ড্যামেজ করে দিতে পারে৷ সেরকম হলে অ্যালকোহল এড়িয়ে যাওয়াই ভালো৷ ধূমপানের অভ্যাস থাকলে এখনই তা ছাড়ার পদক্ষেপ নিন৷ আরও একটি ব্যাপারে কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে৷ যারা ওবেসিটিতে ভুগছেন, তাদের অতিরিক্ত ওজন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কমিয়ে ফেলা দরকার৷ অতিরিক্ত ওজন কিডনি ড্যামেজ করতে যথেষ্ট সাহায্য করে- সেটা মাথায় রাখবেন৷ তাই যতটা অ্যাক্টিভ থাকা যায়, চেষ্টা করাই ভালো৷ তাই নিয়মিত ওয়ার্ক আউট করার অভ্যাস তৈরি করুন৷

কিডনির সমস্যা কিন্তু চট করে ধরা পড়ে না৷ তাই আগে থাকতেই সাবধান হওয়া ভালো৷

যারা ডায়াবেটিস, হার্ট বা হাই ব্লাড প্রেশারের সমস্যায় ভোগেন, তাদের কিডনির বিষয়ে অতিরিক্ত সচেতন থাকা উচিৎ।