মেইন ম্যেনু

সৃজনশীল কাজের জন্যে সঠিক সময়!

সৃষ্টিশীল কাজের প্রতি আগ্রহ? এমন কোন চাকরি করছেন যেখানে খানিকটা নিজস্বতা আর বৈচিত্র্য না থাকলেই নয়? কিংবা পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন সৃজনশীল কোন মাধ্যমকে? তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্যেই। কারণ আপনার চাইতে আর কেউ ভালো জানেনা যে সৃজনশীল কাজ তৈরি করা যায়না। সেটা আপনা আপনিই তৈরি হয়। কিন্তু কোন সেই সময়টা যখন সৃজনশীল কাজে বেশি কার্যকরী হয়ে ওঠা যায়? পাওয়া যায় একটু বেশি সুফল? সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা খানিকটা গবেষণা করেন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে। আর উত্তর? চলুন দেখে আসি।

অনেকে সকালবেলায় ঠিক ঠিক সময় মেনে ঘুম থেকে উঠে নির্দিষ্ট সময়ে প্রস্তুত হয়ে কাজের স্থানে পৌঁছে যান। চেষ্টা করেন নিজের ডেস্কের চারপাশের আলো, আবহাওয়া আর বাকী সবকিছু ঠিকঠাক রাখতে। যাতে করে আরো বেশি উত্পাদনশীল হতে পারেন তিনি। সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় আরো ভালোভাবে কাজ করতে পারে তার মাথা। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এরকম কোন কিছুতেই নয়, বরং একমাত্র ক্লান্তিই পারে মানসিকভাবে মানুষকে আরো বেশি সৃষ্টিশীল করে তুলতে।

গবেষকরা এক্ষেত্রে মানুষকে দিন ও রাতের কাজের ভিত্তিতে ভাগ করেন আর দেখতে পান যে মানুষের মস্তিষ্ক তখনই অত্যন্ত প্রখরভাবে কাজ করতে পারে যখন কিনা তার হাতে প্রচুর কাজ থাকে, অর্থাৎ দিনের বেলায়। এসময় প্রচুর পরিমাণ কাজের চাপে কর্মক্ষম হয়ে থাকে মানুষের শরীর আর মস্তিষ্ক হয়ে পড়ে প্রচন্ডভাবে কর্মঠ।

অন্যসময়, অর্থাৎ, দিনের শেষের ভাগে, যখন মানুষের কাজের চাপ কমে যায় তখন ধীরে ধীরে একটু একটু করে সারাদিনের কাজের ক্লান্তি চেপে বসতে থাকে তার মন ও মস্তিষ্কে। ফলে খুব বেশি কাজ করতে পারেনা মস্তিষ্ক। চিন্তার পরিসর, যুক্তির সীমা আস্তে আস্তে কমে আসতে থাকে আর সামনে যা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে তার বাইরেও একটা বড় পরিসর মাথার ভেতরে খেলা করে মানুষের। ক্লান্ত মস্তিষ্ক নানারকম অদ্ভূত সব ভাবনা নিয়ে খেলতে থাকে। সৃষ্টিশীল হয়ে উঠতে থাকে মানুষ।

বেশ অদ্ভুত আর হাস্যকর শোনালেও এই ব্যাপারটি কিন্তু বেশ কার্যকরী। আর তাই নিজের ভেতরে সৃজনশীলতাকে বাড়িয়ে তুলতে বেশকিছু ব্যাপার মাথায় রাখুন।

প্রথমত, চেষ্টা করুন হাতের কাছেই একটা কলম আর খাতা রাখতে। এতে করে দিনের যেকোন সময়েই ক্লান্ত মস্তিষ্কের কাছ থেকে ভিন্ন কোন সৃজনশীল ধারণা পেতে পারেন আপনি।

এছাড়াও নিজেকে একটু সময় দিন। প্রতিদিন রাতে চেষ্টা করুন দু কলম লেখার। প্রচুর পরিমাণ কাজ করুন দিনের বেলায়। যাতে করে মস্তিষ্ক খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায় আর মেতে ওঠে সৃষ্টিশীলতার খেলায়।