মেইন ম্যেনু

সেই অধরচন্দ্র বিদ্যালয় পরিত্যক্ত ঘোষণা

শত বছরের পুরনো কারুকার্যমণ্ডিত স্থাপত্য নিদর্শন সাভারের অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ভবনটিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন লাল ফিতা টানিয়ে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।

মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মোল্ল্যা ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা উপস্থিত থেকে ভবনটি সিলগালা করে দেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের এই ভবনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তবে ভবনটিকে ভেঙ্গে না ফেলে সংস্কারের মাধ্যমে প্রাচীন এই স্থাপত্যকে বাঁচিয়ে রাখার দাবি জানিয়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন পিটার গোমেজ জানান, দোতলা ওই ভবনটির বয়স ১০৩ বছর হওয়ায় এর বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব ও পাঠাগারসহ বেশ কিছু শ্রেণীকক্ষের ছাদের পলেস্তাঁরা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাছাড়া গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ছাদ দিয়ে পানি পড়ছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের দুই হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয় সেজন্য বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ভবনে স্থানান্তরের মাধ্যমে সিফটিং পদ্ধতিতে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা জানান, আমরা এতগুলো শিক্ষার্থীদের প্রাণ ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারি না। এছাড়া সাভারে বহুল আলোচিত রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় শিক্ষার্থীরাও ভবনটি নিয়ে বেশ আতঙ্কিত। তাই স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আপাতত এই ভবনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে ভবনটির সয়েল টেস্ট করানো হবে। সেই সঙ্গে এটি ভেঙ্গে না ফেলে সংস্কারের মাধ্যমে প্রাচীন কারুকার্যম-িত এই স্থাপত্য নিদর্শনটিকে কিভাবে দর্শনীয় করে তোলা যায়, সে ব্যাপারেও মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলা ১৩১৯ সালে স্বর্গীয় রাখাল চন্দ্র সাহা তার বাবার নামে সাভারের থানা রোড এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন এই বিদ্যালয়টি। সেই থেকে বিদ্যালয়টির নামকরণ নেওয়া হয় সাভার অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়। তৎকালীন সাভারের একমাত্র ও প্রথম বিদ্যালয় এটি।

এছাড়া ২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল বিশ্বের আলোড়ন সৃষ্টিকারী রানা প্লাজা ধসে নিহত শ্রমিকদের স্মৃতি বহন করছে এই অধরচন্দ্র বিদ্যালয়। কারণ ইতিহাসের ওই ভয়াল দিনে এই বিদ্যালয়ের মাঠ ও বারান্দাতেই রাখা ছিলো ভবন ধসে নিহত হাজারো নিরীহ শ্রমিকের লাশ।