মেইন ম্যেনু

সেই ছাত্রই বলল ‘স্যার ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেননি’

দশম শ্রেণীর ছাত্র রিফাতের কথা বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে লাঞ্ছিত করা হয়েছিল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে। কিন্তু সেই রিফাতই এখন ধর্ম নিয়ে ওই শিক্ষকের কটূক্তি করার কথা অস্বীকার করেছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে রিফাত বলেছে, স্যার তাকে মারধোর করায় সে বিচার চাইতে কমিটির কাছে গিয়েছিল। কিন্তু মারধোরের সময় ধর্ম নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। একই কথা বলেছেন রিফাতের মা-ও। শিক্ষক শ্যামল কান্তি ধর্ম নিয়ে কোনো অবমাননা করেছেন বলে তিনিও শোনেননি বলে জানান।

গত ১৩ মে বিকেলে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ রটিয়ে নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যাণদি এলাকায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে সবার সামনে কান ধরে উঠবস করিয়ে ক্ষমা চাওয়ান স্থানীয় সংসদ ও জাতীয় পার্টি নেতা সেলিম ওসমান।

সেলিম ওসমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, শ্যামল কান্তি ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করায় এলাকাবাসীর রোষ থেকে তাকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন তিনি।

তবে ভিডিওতে দেখা যায় সাংসদ সেলিম ওসমান নিজেই শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করিয়ে শাস্তি দিচ্ছিলেন।

এলাকাবাসী জানায়, বাইতুল আতিক জামে মসজিদের মাইকে কারা যেন ঘোষণা দেয় প্রধান শিক্ষক ধর্ম নিয়ে কথা বলেছেন। তবে মসজিদের মাইক ব্যবহার করে কারা এই ঘোষণা দিল তা জানেন না মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনও।

শ্যামল কান্তি ধর্ম নিয়ে কখনো কোনো উগ্র কথা বলেননি বলে জানান স্কুলের ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক।

প্রধান শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করিয়ে শাস্তি দেয়ার ওই ঘটনার তিনদিন পর বন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আ ক ম নুরুল আমিনকে প্রধান করে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে নিয়ে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

পুলিশ ওই ঘটনায় কোনো ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে না পাওয়ার দাবি করলেও দণ্ডবিধি অনুসারে একে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।