মেইন ম্যেনু

সেই দুই স্বর্ণকন্যার দায়িত্ব নিচ্ছে সরকার

বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা দরিদ্র দুই স্বর্ণকন্যার দেখভালের দায়িত্ব নিচ্ছে সরকার। তাদের বাসাবাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া এবং জীবন-জীবিকার প্রয়োজনীয় তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভায় সরকারের সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে একাধিক মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

সুত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে দুই স্বর্ণকন্যা মাবিয়া আক্তার ও মাহফুজা আক্তার শিলার দরিদ্র পরিবারের অসহায় জীবন যাপনের বিষয়টি উঠে আসে। দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা দুই কন্যার ভাল জায়গায় থাকা খাওয়া কিভাবে করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, ওরা দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে। যেভাবে অসহায় জীবন যাপন করছে তা কখনও কাম্য নয়। তাদের ভালভাবে বেঁচে থাকার জন্য ঘরবাড়ি করে দেবো। তাদের এ বিষয়টি দেখাশোনার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। শুধু তাই নয়, স্বর্ণকন্যা শিলার পরিবার অসচ্ছ্বলতার কারণে যে স্বর্ণপদক বিক্রি করে দিয়েছিলেন তা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেন।

ভারতের গৌহাটি ও শিলংয়ে ১২তম সাউথ এশিয়ান (এসএ গেমস) গেমসে স্বর্ণ পদক অর্জন করে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেন মাবিয়া ও শিলা। ২৩টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে অন্যতম ভারোত্তোলনে স্বর্ণ জিতেন মাবিয়া। ৭ ফেব্রুয়ারি মাবিয়া আক্তারের মাধ্যমে প্রথম স্বর্ণ পদক পায় বাংলাদেশ।

একইভাবে মাহফুজা আক্তার শিলা ৮ ফেব্রুয়ারি এসএ গেমসে ৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে দুটি স্বর্ণ পদক জিতে বাংলাদেশের জন্য অনন্য গৌরব বয়ে আনেন।

দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা স্বর্ণকন্যা মাবিয়া ও শিলার পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। আর্থিক অসচ্ছ্বলতার মধ্যে তাদের দিন কাটে।

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগের এলাকার ঘনবসতি এলাকায় ছোট্ট একটি টিনের বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন মাবিয়া। বাবার মুদি দোকানই তাদের একমাত্র ভরসা। জীবন-জীবিকার পাশাপাশি ভারোত্তলনের মত কঠিন অনুশীলনে প্রয়োজনীয় যোগান দেওয়া কষ্টকর এই অসচ্ছ্বল পরিবারের। টাকার অভাবে পড়ালেখাও বন্ধ মাবিয়ার। সবকিছু মিলিয়ে অসহায় দিন যাপন করছে স্বর্ণকন্যা মাবিয়া।

অন্যদিকে শিলার পরিবারও দরিদ্র। অভাব অনটনের মধ্যে দিন চলে তাদের। তবে এর মধ্যেও শিলা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে স্বর্ণপদক জয় করেছে। কিন্তু অভাবের কারণে শিলার একটি স্বর্ণপদক বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে পরিবার।