মেইন ম্যেনু

সেই বাড়িটি এখন সুনসান: ‘জানি না, জানার দরকারও নাই’

আপিল বিভাগের রায়ের ফলে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ গুলশানের যে বাড়িটি হারাতে যাচ্ছেন, সেটি এখন অনেকটাই সুনসান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মওদুদ আহমদ ও তার স্ত্রী ছাড়া ওই বাড়িতে পরিবারের আর কেউ থাকে না। অথচ সেখানে একসময় দলীয় লোকজনের সমাগম ছিল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত।

প্রায় দেড় বিঘা জমির ওপর বানানো বাড়িটিতে প্রায় তিন যুগ ধরে আছেন মওদুদ আহমদ। কিন্তু ওই বাড়ির মালিকানা এখন আর তার ভাই মনজুর আহমদের নামে থাকছে না। মনজুর আহমদের নামে বাড়িটির নামজারি করতে এর আগে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু মঙ্গলবার সেই রায় আপিল বিভাগে বাতিল হয়ে যায়। মনজুর আহমেদ বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন।

মওদুদ আহমদের ওই বাড়িতে গৃহস্থালির কাজে নিয়োজিত এক নারীর সঙ্গে কথা হয়। বাড়ির মূল-ফটকের ওপাশ থেকে আদালতের রায়ের ব্যাপারে

তিনি বলেন, ‘আমরা এ বাড়িতে কাজ করি, বাড়ি ছাড়ার ব্যাপারে কিছু জানি না; জানার দরকারও নাই।’ গুলশানের ১৫৯ নম্বর ওই বাড়ির ভেতরে ঢোকার অনুমতি মেলেনি। আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কথা বলতেও রাজি হননি।

বাড়ির সদস্য-সংখ্যা সম্পর্ক ওই গৃহপরিচারিকা জানান, একজন কাজের ছেলে, দু’জন বুয়া, একজন বাবুর্চি, দু’জন গাড়িচালক, মওদুদ আহমদের পিএস আর একজন মালি আছেন। তবে তারা সবসময় থাকেন না।

উল্লেখ্য, ওই বাড়ি দখলের অভিযোগে ২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর গুলশান থানায় মওদুদ আহমদ ও মনজুর আহমদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবারের রায়ে অবশ্য ওই মামলা থেকে মওদুদ আহমদ ও মনজুর আহমদকে নিষ্কৃতি দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

মওদুদের বাড়িএদিকে বুধবার আপিল বিভাগ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছে। আইন অনুযায়ী, রায় পুনর্বিবেচনার জন্য ৩০ দিন সময় পাওয়া যায়। মওদুদ আহমদ জানিয়েছেন, তিনি রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করবেন।

দুদকের মামলা বাতিল করে আপিল বিভাগ যে রায় দিয়েছেন, তা পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে দুদক। কমিশনের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী আমরাও রায় পূর্ণবিবেচনার জন্য আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করবো। কমিশনকে রায়ের কপি দিয়েছি। কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে। আর মামলা বাতিল হলেও মওদুদ আহমদকে বাড়ি ছাড়তেই হচ্ছে।’

এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, বাড়িটি মওদুদ আহমদকে ছাড়তেই হবে। তিনি বলেন, ‘তার উচিত বাড়িটি ছেড়ে দেওয়া। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের উচিত বাড়িটি উদ্ধার করে সরকারি হেফাজতে নেওয়া।’ -বাংলা ট্রিবিউন