মেইন ম্যেনু

সেই লম্পট শিক্ষকের কেলেঙ্কারি ঢাকতে আ.লীগ নেতার দৌড়ঝাপ

ছাত্রীর অশ্লীল ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের দায়ে অভিযুক্ত ঠাকুরগাঁওয়ের সেই লম্পট শিক্ষক পইদুল ইসলামকে বাঁচাতে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে পইদুল ইসলামের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ করেছে এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে এসব আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে।

এ নিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা জামালপুর ভগদগাজী এলাকায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, পইদুল ইসলামের নিজ এলাকা ৯নং রায়পুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম তাকে বাঁচাতে ভুক্তভোগী ওই মেয়ের পরিবারকে কিছু অর্থ দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার পায়তারা করছেন। এই বিষয়টির সঙ্গে ভগদগাজী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ম্যানিজিং কমিটির কতিপয় সদস্যরাও জড়িত বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে ৯নং রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানাজানির পর আমরা কয়েকজন একত্রিত হয়ে মেয়ের পরিবারের সর্মথনে ছেলে-মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটেনি।

তবে ভুক্তভোগী মেয়ের বাবা রুহুল আমিন জানান, সমাজে মান সম্মানের ভয়ে ওই ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু এটি জঘণ্যতম একটি অপরাধ।

ভগদগাজী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হেমাইনুদ্দিন চৌধূরী জানান, বিষয়টি জানার পর দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি কিছু বলতে পারবো না।

ভগদগাজী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত হওয়ার পরে সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এতিকে অভিযুক্ত লম্পট শিক্ষক পইদুল ইসলাম জানান, আমি ওই মেয়কে বিয়ে করেছি। সেহেতু আর কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না।

উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৯নং রায়পুর ইউনিয়নের মটরা এলাকার ধনিবুলার ছেলে পইদুল ইসলাম। সে ভগদগাজী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১১ সালে বিএসসি শিক্ষক হিসাবে যোগদান করে। যোগদানের পর থেকেই সে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিদ্যালয়ের ছাত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মেয়েদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে ও তাদের ব্ল্যাকমেইল করে অবাধে অনৈতিকভাবে মিলিত হতে বাধ্য করে।

সম্প্রতি ওই স্কুলের এক শিক্ষকের মেয়ের সঙ্গে অবৈধ মেলামেশার ছবি সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তির মতামতে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তাকে বিয়ে দেওয়া হয়।

এরইমধ্যে এলাকাবাসী ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা জামালপুর ভগদগাজী উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই লম্পট শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রামে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিভিন্ন স্থানে একাধিক ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন লাগিয়েছে।