মেইন ম্যেনু

ফলোআপ :

সেই লাইব্রেরিয়ানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা !

রাজশাহী ব্যুরো প্রধান: রাজশাহীর বাঘায় এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন একই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। উপজেলার সরেরহাট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান জাকিরুল আলম (টুটুল) ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে রোববার রাতে বাঘা থানায় এ মামলাটি দায়ের করেছেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক মর্জিনা বেগম।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, একই বিদ্যালয়ে চাকরির সুবাদে পরিচয়ের এক পর্যায়ে বাদী মর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় লাইব্রেরিয়ান জাকিরুল। প্রায় ৪ বছর আগে মর্জিনার প্রথম পক্ষের স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর সম্পর্ক গড়ে তুলে মর্জিনাকে এই প্রস্তাব দেন জাকিরুল। নিজের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তার কথায় বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হন মর্জিনা।

প্রায় ৩ বছর ধরে বিয়ের অজুহাতে বিভিন্ন স্থানে মর্জিনাকে নিয়ে রাত্রি যাপনও করেছেন জাকিরুল। এদিকে বিয়ের টালবাহনায় তিন বছরে বিভিন্ন সময়ে দুই লাখ টাকাও নিয়েছেন। সর্বশেষ ১৬ মার্চ বুধবার বিকালে কথা বলে উপজেলার ব্রাম্মনডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাড়িতে মর্জিনাকে ডেকে নেন জাকিরুল। সেখানেও বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়।

এসময় বাধা প্রদান করে বিয়ের প্রস্তাব দিলে জাকিরুল ও জাহাঙ্গীরসহ তার বাড়ির অপর লোকজন টানা হেচড়া করে পরিধেয় বস্ত্র ছিঁড়ে ফেলে শ্লীলতাহানিসহ শারিরিক নির্যাতন করে এবং বাড়ির অন্য লোকজন মোবাইল ফোনসহ ভ্যানিটি ব্যগ থেকে ৩০ হাজার টাকা বের করে নেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মর্জিনাকে উদ্ধার করে তার বাবার বাড়ি উপজেলার চক এনায়েতপুর গ্রামে পৌঁছে দেয়। সামাজিক সমঝোতায় বিয়ের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে আর বিয়ে করতে রাজি হন নি জাকিরুল। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ১৫ তারিখে বিয়ের কথা বলে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় জাকিরুল ও জাহাঙ্গীরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিক্ষিকা মর্জিনা। এদিকে অনৈতিক কর্মকা-ের অভিযোগে দুইজনকে সমায়িক বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত শনিবার বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যার সত্যতা নিশ্চিত করেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বাচ্চু।

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ আলী মাহমুদ জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ধর্ষণ, ধর্ষনের চেষ্টা, শ্লীলতাহানি ও টাকা পয়সা কেড়ে নেয়ার অপরাধে দ-বিধি ৩২৩, ৩৭৯, ৫০৬ ধারাসহ নারি ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯ (১১)/৯-৪(খ)/১০/৩০ ধারায় মামলা হয়েছে। আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।