মেইন ম্যেনু

সেই শিয়া মসজিদের মুয়াজ্জিনের ছেলেকে হত্যার হুমকি

শিবগঞ্জে হরিপুর-চককানু গ্রামে শিয়া মসজিদে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত মুয়াজ্জিনের ছেলে সাহাজুলকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন আবু বক্কর (২৫) নামে এক যুবক। অবশ্য এ অভিযোগে তাকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুরে হরিপুর গ্রামে স্থাপিত অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করে।

হরিপুর চককানু গ্রামের শিয়া সম্প্রদায়ের নেতা মাওলানা আবু জাফর মণ্ডল জানান, শনিবার দুপুর ২টার দিকে আবু বক্কর নিহত মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেনের বাড়িতে বোনের বিয়ের জন্য সাহায্য নিতে যান। এ সময় মুয়াজ্জিনের ছেলে তাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বললে ওই যুবক সাহাজুলের ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে তাকে হত্যা করে রক্ত খাবে বলেও হুমকি দেন।

শিয়া সম্প্রদায়ের ওই নেতা আরো জানান, বিষয়টি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে জানানো হলে তাকে আটক করা হয়। আটক যুবক আবু বক্কর শিবগঞ্জ উপজেলার রাঙ্গামাটি গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। পরে তাকে ক্যাম্প থেকে শিবগঞ্জ থানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।

মাওলানা আবু জাফর মণ্ডল আরও জানান, এ ঘটনার পর শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকে ওই যুবককে মাদকাসক্ত বললেও তিনি তা মানতে নারাজ। কারণ এমন ছদ্মবেশে এসেই মসজিদে হামলা করা হয়েছিল।

এদিকে, শনিবার দুপুরে ডিবি হেফাজতে থাকা জেএমবি ও সাবেক সেনা সদস্য আনোয়ার হোসেন এবং মাদরাসা ছাত্র জুয়েল মিয়াকে সাত দিনের রিমান্ড শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ হাজির করা হয়। পরে আদালতের বিচারক কামরুজ্জামান তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল জানান, রিমান্ডে থাকা আসামিদের কাছ থেকে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়াও এখন পর্যন্ত মসজিদে গুলি ঘটনায় কোনো ক্লু খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে নিহত মোয়াজ্জিনের ছেলেকে হুমকি দেয়ার অভিযোগে এক জনকে আটকের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যার পর শিবগঞ্জ উপজেলার হরিপুর-চককানু গ্রামে শিয়া সম্প্রদায়ের আল-মোস্তফা জামে মসজিদে নামাজরত অবস্থায় অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিবর্ষণে মোয়াজ্জিন নিহত ও তিন মুসল্লি গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত র‌্যাব ও পুলিশের অভিযানে সাতজন গ্রেপ্তার হয়।

অপরদিকে, মসজিদে হামলার পর থেকেই আতঙ্ক রয়েছে শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন। তাদের নিরাপত্তার জন্য চককানু ও হরিপুর গ্রামে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।