মেইন ম্যেনু

২০১৩ সালের পর থেকে ছাত্রলীগের একটি অংশের প্রশ্রয়ে আছেন তিনি

সেই হান্নান ফের প্রকাশ্যে, দোকান ও গাড়ি ভাঙচুর

সিলেটের এমসি কলেজে ২০১৩ সালে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া সেই আবদুল হান্নান ওরফে ‘ক্যাডার হান্নান’ আবার অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে এলেন। তিনি এবার দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নগরের মেজরটিলার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। গত শনিবার রাতের ওই ঘটনার বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী এসব তথ্য জানিয়েছেন।

নগরের টিলাগড় এলাকায় ছাত্রলীগের দুটি পক্ষের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে সংগঠনটির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় কাইয়ুম কমপ্লেক্স নামের ওই বিপণিবিতানের মালিক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী গতকাল রোববার সকালে শাহপরান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে আটটার দিকে হান্নানের নেতৃত্বে একটি দল দা ও রামদা উঁচিয়ে মেজরটিলায় অবস্থিত কাইয়ুম কমপ্লেক্সের ফিজা অ্যান্ড কোম্পানির সুপারশপে হামলা চালায়। তারা প্রতিষ্ঠানটির দরজা-জানালা ও মালপত্র তছনছ করে। চলে যাওয়ার সময় দোকানের পাশের ইউনিয়ন ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংকে ঢিল ছোড়ে। পরে ব্যাংকের সামনে থাকা একটি জিপ ভাঙচুর করে তারা।

খবর পেয়ে শাহপরান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। হামলাকারীরা তার আগেই পালিয়ে যায়। গাড়িটির ভেতরে হাতলবিহীন একটি দা পাওয়া গেছে। শনিবার বিকেলে ফিজা সুপারশপে ছাত্রলীগের একটি পক্ষের কর্মীরা খাওয়াদাওয়া করেন। সে কারণে অপর পক্ষের কর্মীরা প্রতিষ্ঠানটিতে এ হামলা চালিয়েছেন বলে ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন।

হামলার সময় হান্নান প্রকাশ্যে দা বহন করছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ভাঙচুর করা গাড়িটি বিপণিবিতানের মালিক কাইয়ুম চৌধুরীর। তাণ্ডব শেষে হান্নান গাড়ির ভেতরে হাতলবিহীন দা-টি ফেলে যান। হান্নানের বাড়ি মেজরটিলায়। ২০১৩ সালের ১৯ মে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সশস্ত্র মহড়া দেওয়ার সময় তিনি হেলমেট পরে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেন। একাধিক পত্রিকায় তা ছাপা হয়। সেই থেকে তিনি গা ঢাকা দিয়ে টিলাগড় এলাকায় ছাত্রলীগের একটি অংশের প্রশ্রয়ে আছেন বলে সংগঠনটির একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ফিজা সুপারশপ পরিচালনার সঙ্গে থাকা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরীর পক্ষের কর্মী হিসেবে পরিচিত হান্নান। তাঁর নেতৃত্বে একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী দল এ হামলা চালিয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে খোয়া গেছে নগদ লক্ষাধিক টাকা। তবে ছাত্রলীগ নেতা রায়হান চৌধুরীর দাবি, এই হামলা, লুটপাট ও গাড়ি ভাঙচুরের সঙ্গে ছাত্রলীগ সরাসরি জড়িত নয়। তবু ছাত্রলীগের নাম আসায় ব্যাপারটি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার ওসি নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। তবে গতকাল বিকেল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।