মেইন ম্যেনু

সেতুতে আগে যাওয়ার জন্য লাইন ভাঙলেই বিনাওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার

কোনো সেতুতে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি বা আগে যাওয়ার জন্য সারিভঙ্গ করে টোলঘরের কাছে জটলা সৃষ্টি করলে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ ও বিনাওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করার বিধান রেখে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৬ বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এছাড়া বিলে সেতু কর্তৃপক্ষকে সেতু বা টানেল পরিচালনায় কোম্পানি গঠন ও ইজারা প্রদানেরও ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দশম সংসদের একাদশ অধিবেশনের রোববার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বৈঠকে বিলটি পাস হয়। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৬ বিলটি পাস করার প্রস্তাব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এরআগে বিলটির ওপর আনীত বাছাই কমিটিতে প্রেরণ, জনমত যাচাই ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে সংসদে নাকচ হয়ে যায়।

সেতু কর্তৃপক্ষের বিলের ২১ ধারায় বলা হয়েছে, সেতু কর্তৃপক্ষ জনসাধারণরে জন্য বিপজ্জনক মনে করলে নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করতে পারবে। ২২ ধরায় সেতু কর্তৃপক্ষকে নিজ এলাকায় যে কোনো প্রতিবন্ধকতা অপসারণে বল প্রয়োগের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

২৩ ধারায় সেতু কর্তৃপক্ষকে যে কোনো যানবাহন থামানো, যানবাহনের চালক, যাত্রী বা ব্যক্তিকে তল্লাশী করার ক্ষমতাও দেয়া হয়েছে। ২৫ ধারায় সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে কোনো স্থাপনা নির্মাণের পর তার মালিকানা, প্রশাসন ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা ও রক্ষণা-বেক্ষণের দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য শেয়ার মূলধন সম্পর্কিত কোম্পানি গঠনের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ২৭ ধারায় সেতু কর্তৃপক্ষকে সেতু, টানেল বা অন্যান্য স্থাপনা নির্ধারিত শর্তে ইজারা প্রধানের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

২৮ ধারায় কোনো সেতু, টানেল বা টোল সড়কে বা অন্যকোনো স্থাপনায় যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে বা আগে যাওয়ার জন্য সারিভঙ্গ করে সেতু টোলঘরের কাছে জটলা সৃষ্টি করলে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ২৯ ধারায় কর্তৃপক্ষের কোনো আদেশ অমান্য করলে অনধিক পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

এছাড়া ৩০ ধারা বলে পুলিশ বা কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেতু কর্তৃপক্ষের জারীকৃত কোনো বিধি বা আদেশ অমান্য করতে দেখলে বিনাওয়ারেন্টে তাকে গ্রেপ্তার করতে পারবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আদালতের রায়ে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের ১৯ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হওয়ায় যমুনা বহুমুখী সেতু কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ১৯৮৫ এবং ২০০৯ সালে নাম যমুনা বহুমুখী সেতু কর্তৃপক্ষ ২০০৯-এর কার্যকারিতা লোপ পায়। আইনের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সেতু, টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ ও রক্ষণা-বেক্ষণের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা ও বিধান প্রণয়নের জন্য জারিকৃত অধ্যাদেশ পরিমার্জিত আকারে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৬ বিলটি সংসদে পেশ করা হলো।