মেইন ম্যেনু

সেদিন কী হয়েছিল মিনায়?

পবিত্র হজ পালনকালে মক্কার মিনায় পদদলিত হয়ে সাত শতাধিক হাজির মৃত্যুর ঘটনাটি এখন টক অব দ্যা ওয়াল্র্ডে পরিণত হয়েছে। এই দুর্ঘটনার জন্য শুধু মুসলিম উম্মাহ ব্যথিত নয়, ব্যথিত পুরো বিশ্বের মানবসমাজ। নিহত হাজিদের জন্য খ্রিস্টান প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসও ক্ষমা প্রার্থণা করেছেন।

এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭১৭ জন। যাদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি। এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার।

আসলে সেদিন কী হয়েছিল মিনায়? যেটা হয়েছে সেটা হলো, একটি রাস্তায় দুটি জনস্রোত মুখোমুখি আটকে গেছে। ২২৩ আর ২০৪ নম্বর রাস্তার লোকেরা ছোট একটি ইন্টারসেকসনে জন জ্যামে পড়ে যায়। আর সেখান থেকে খুব দ্রুত কিছু বুঝে ওঠার আগেই এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। অথচ ২২৩ এবং ২০৪ নং রাস্তা দুটি একদল চলে যাওয়ার পরে অন্য দলের জন্যে খোলা থাকার প্রোগ্রাম করা ছিল। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে। তবে কেন এই ভুল হল তার তদন্ত চলছে অতি উচ্চ পর্যায়ে।

আল দিয়ার নামের একটি আরব দৈনিকে বলা হয়েছে, প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ গত বৃহস্পতিবার মিনায় আসেন বাদশাহর (তার বাবা) সঙ্গে বৈঠকের জন্য। প্রিন্সের সঙ্গে ছিল ৩৫০ সদস্যের নিরাপত্তা দল। প্রিন্সের নিরাপত্তার কারণে চলাচল একমুখী করা হয়েছিল এবং এত বড় ঘটনার জন্য এর দায় আছে। তবে সৌদি আরব এই খবর ‘ঠিক না’ বলে জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবারের ঘটনার পরপরই একজন সৌদি যুবরাজ এ ঘটনার জন্য ‘আফ্রিকান’ হাজিদের দায়ী করে বিবৃতি দিয়েছেন। এত বড় ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে এই ধরনের মন্তব্য করা ঠিক হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে।

মিনায় পায়ের চাপে পিষ্ট হয়ে নিজ দেশের হাজির মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার ইরানের রাজধানী তেহরানে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ করে। ইরানের দাবি, তাদের দেশের অন্তত ৬০ জন হাজি আহত হয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এই দুঃখজনক ঘটনার দায়িত্ব সৌদি সরকারের নেওয়া উচিত।’

বিশ্বের সবচেয়ে মুসলমান জনবহুল দেশ ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো বলেছেন, হজ ব্যবস্থাপনার উন্নতি অবশ্যই হওয়া উচিত যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।