মেইন ম্যেনু

সেনাদের পিটিয়ে পুলিশের হাতে দিল এরদোয়ান সমর্থকরা

শেষ পর্যন্ত জনগণের প্রতিরোধের মুখে তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর ট্যাংকের ওপর সাধারণ মানুষের দখল দেখা গেছে। এ ছাড়া ইস্তাম্বুলের সড়কে ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে সেনাসদস্যদের পোশাক, হেলমেটসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক দ্রব্য। কোথাও কোথাও সেনাদের পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সমর্থকরা।

গতকাল শুক্রবার রাতে এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অভ্যুত্থানে চেষ্টারত সেনাসদস্যদের প্রতিহত করতে জনগণকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে শুক্রবার রাত থেকেই রাজপথে অবস্থান নেন তাঁর সমর্থকরা। সেনাসদস্যদের ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা।

অভ্যুত্থানের শুরুতে মার্শাল ল (সেনাশাসন) ঘোষণা করে তুরস্কের সেনাবাহিনীর একটি অংশ দেশজুড়ে কারফিউ জারি করেছিল। তবে এই কারফিউ ভেঙে অভ্যুত্থানের চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে তুরস্কের জনগণ। বড় শহর ইস্তাম্বুলের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জড়ো হয় তুর্কিরা।

ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইস্তাম্বুলের তাকসিম স্কয়ারে জাতীয় পতাকা হাতে জড়ো হন হাজারো সাধারণ মানুষ। তাঁরা সেনাবাহিনীবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। অনেকেই সেনাবাহিনীর ট্যাংকের ওপর উঠে বিক্ষোভ করেন। ইস্তাম্বুল ছাড়াও রাজধানী আংকারাসহ অন্যান্য শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

1468653303-2

সিএনএনের ফুটেজে দেখা যায়, ইস্তাম্বুলের বসফরাস সেতু এলাকায় সরকারি বাহিনীর কাছে হাত উঁচিয়ে আত্মসমর্পণ করছেন সেনাসদস্যরা। বিভিন্ন ট্যাংক থেকে বেরিয়ে সারিবদ্ধভাবে হেঁটে আত্মসমর্পণ করেন তাঁরা। এ ছাড়া ইস্তাম্বুলের বিভিন্ন স্থান থেকে সেনাসদস্যদের মারধর করে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় জনতা।

এরদোয়ানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজপথে নেমে আসা সাধারণ মানুষকে সেনাবাহিনীর ট্যাংকের সামনেই নির্ভীকভাবে হেঁটে যেতে দেখা যায়। সেনাসদস্যদের ছোড়া ফাঁকা গুলির মুখেও তারা এগিয়ে যাচ্ছেন বলে সিএনএনের এক ভিডিওতে দেখা যায়।

তুরস্কের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা আন্দালু জানিয়েছে, আংকারার গলাবাসি জেলায় অভ্যুত্থানকারীদের একটি হেলিকপ্টারকে গুলি করে মাটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই হেলিকপ্টারটি তুরস্কের স্যাটেলাইট স্টেশনে হামলার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল।