মেইন ম্যেনু

সেনাদের ফাঁদে ফেলতে ৯০০ সুন্দরীকে প্রশিক্ষণ!

ফাঁদে ফেলতে দুই বছরে ৯০০ সুন্দরীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে আইএসআই। সুন্দরী বান্ধবীর ‘টোপ’ গিলে অনেক সেনা অফিসার পাক গুপ্তচর সংস্থা (আইএসআই)-এর ফাঁদে পা দিয়েছেন। যার সবশেষ উদাহরণ ভারতীয় বিমান বাহিনীর অফিসার রঞ্জিত কেকে। খবর ভারতীয় মিডিয়ার।

খবরে বলা হয়, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর গোপন খবর সংগ্রহ করতে গত কয়েক বছর ধরে তুখোড় এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের ব্যবহার করছে আইএসআই। দাবি ভারতীয় সেনা গোয়েন্দাদের।
২০১০-এ রাজস্থানের ৮২ আর্মড রেজিমেন্টে কর্মরত এক লেফ্টেন্যান্ট কর্নেল আইএসআই-এর সুন্দরী নারীর ফাঁদে পড়েছিলেন। সেই সময় অভ্যন্তরীণ নজরদারিতে সন্দেহজনক ওয়েব ট্র্যাফিক ধরা পড়ে। সেই ওয়েব ট্রেল ট্র্যাক করে শেষ পর্যন্ত ওই লেফ্টেন্যান্ট কর্নেল অবধি পৌঁছান গোয়েন্দারা।

খবরে বলা হয়, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে এক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। পরিচয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের মধ্যে রাত জেগে কথাবার্তা শুরু হয়। তার পর সাধারণ কথার মোড়ক সরিয়ে সেই জায়গা নেয় যৌন উত্তেজক আলাপ আলোচনা। এর পরে ওই নারী সফলভাবে যৌনতাকে ব্যবহার করে ওই সেনা অফিসারের কাছ থেকে বাহিনী সম্পর্কে বিভিন্ন গোপন তথ্যাদি হাতাতে শুরু করেন। গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়ার পরে কোর্ট-মার্শাল হয় ওই লেফ্টেন্যান্ট কর্নেলের। শেষে চাকরিও যায়। গোয়েন্দারা কিন্তু এখানেই থেমে থাকেননি। তারা ওই নারীর অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে জানতে পারেন, তিনি আইএসআইয়ের হয়ে আধা সামরিক বাহিনীর এক কমান্ডোকেও ফাঁদে ফেলেছেন।

গত বছর উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজ্য পুলিশ আইএসআই চর সন্দেহে আসিফ আলি নামে এক জনকে গ্রেফতার করে। তাকে জেরা করে পাক গুপ্তচর সংস্থার অভিনব ওই কৌশলের কথা জানা যায়। আসিফ জানায়, তারা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় মাসের পর মাস ধরে রেকি করে। এর পর অফিসারদের একটা খসড়া তালিকা তৈরি হয়। এই তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে অফিসারদের ক্ষমতা এবং দায়িত্বের কথা মাথায় রাখা হয়। এমনকী, তারা কে কতটা সময় কাটান সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে, দেখা হয় তা-ও। এর পর সেই তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেয় আসিফরা। কখনও কখনও অফিসারদের ছবিও পাঠানো হয় তালিকার সঙ্গে।

এরপর আইএসআইয়ের টেকনিক্যাল রিসার্চ উইং তালিকাভুক্ত অফিসারদের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে সব রকমের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে। অনলাইন কার্যকলাপের সবিস্তার রিসার্চের পরে তারা তাদের নারী ব্রিগেডকে কাজে লাগায়। আসিফকে জেরা করা এক গোয়েন্দা কর্তা বলেন, ‘ওই গুপ্তচর সংস্থা কাজের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পেশাদারিত্ব বজায় রাখে। নিশানায় থাকা অফিসারদের সামগ্রিক গতিবিধি নিয়ে প্রবল গবেষণা করে তারা। এর ফলে তারা ওই অফিসারদের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা কী, সেটাও জেনে নেয়। সেই মতো তারা ওই অপিসারকে টোপ দেয়।’

আসিফকে জেরা করতে গিয়ে গোয়েন্দারা আশ্চর্য তথ্য জানতে পারেন। সন্দেহ এড়াতে ওই নারী বাহিনীর সদস্যদের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট পাকিস্তান থেকে অপারেট করা হয় না। এমন কোনও দেশ থেকে করা হয়, যে দেশের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই।

আসিফের কথা অনুযায়ী, এক ক্যান্টনমেন্ট অফিসারকে নিজেদের কব্জায় নিয়ে এসেছিল। নারী বাহিনী সযতেœ তার কাছ থেকে ল্যাপটপে গোপন তথ্য বের করে নেয়। প্রথমে ফেসবুকের ‘বান্ধবী’ ওই অফিসারকে একটা ল্যাপটপ উপহার দিতে চায়। অফিসার রাজি হওয়ায় বান্ধবীর লোক সেজে আসিফ ওই অফিসারকে ক্যান্টনমেন্টে সেই উপহার পৌঁছে দেয়।

আসিফ গোয়েন্দাদের জানায়, এর ফলে দুটো কাজ হয়। এক, ওই অপিসারের সঙ্গে সামনাসামনি পরিচয়। দুই, কোনও তথ্য এবং ম্যাপ হাতে হাতে নিয়ে নিতেও সাহায্য করে এই ধরনের যাতায়াত। নারী বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে ফরিদ কোটে আইএসআইয়ের একটা ট্রেনিং সেন্টারও আছে বলে গোয়েন্দাদের জানিয়েছিল আসিফ। অবাক হওয়ার আরও ছিল। ২০১২ থেকে ২০১৪ এই দু’বছরে প্রায় ৯০০ মহিলাকে অনলাইনে ‘মধুর ফাঁদ’ পাততে ট্রেনিং দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা