মেইন ম্যেনু

সেন্টমার্টিনে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য

দীর্ঘ পাঁচ মাস পর আবারো প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে বৃহস্পতিবার পর্যটকবাহী প্রমোদ তরীর যাত্রা শুরু হওয়ায় সবার মাঝে এ প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিগত ৫ মাস বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ২৬৮ ভ্রমণ প্রেমী নিয়ে এ মৌসুমের প্রথম জাহাজ সেন্টমার্টিন যায়। পর্যটন সেবা দিতে ঘাটে প্রস্তুত রয়েছে আরো দুটি বিলাস বহুল জাহাজ।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম জানান, টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসক কার্যালয়। বৃহস্পতিবার থেকে কেয়ারি সিন্দবাদ, কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন ও বে ক্রুজ এই নৌরুটে চলাচলের অনুমতি পায়।

বিগত সময়ে ঈদ পরবর্তী ছুটিতেই জাহাজ চলাচল শুরু হতো। কিন্তু এবার দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রশাসন কোরবানির ঈদে জাহাজ ছাড়ার অনুমতি দেয়নি। এখনো বাদলা আবহাওয়া বিরাজ করায় প্রশাসন ঝুঁকির চিন্তায় জাহাজ চলাচলে অনুমতি দিচ্ছিল না।

তবে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আশ্বাসের কারণে শেষমেষ সেন্টমার্টিন-টেকনাফ নৌ-রুটে জাহাজ চলাচলের অনুমতি মেলায় ব্যবসায়ীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, পর্যটন মৌসুমে ৭-৮টি জাহাজ টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে চলাচল করলেও মৌসুম শেষে কিছু অন্য নৌরুটে চলে যায়। তবে কেয়ারি গ্রুপের দুটি জাহাজ টেকনাফে থাকলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এপ্রিল থেকে বেশ কয়েক মাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।

কিন্তু কাঠের ট্রলারে স্থানীয় ও অনেক পর্যটক সেন্টমার্টিন যাতায়ত অব্যাহত রাখে। তবে জাহাজ চলাচল শুরু হলেই হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলো ধুয়ে মুছে পর্যটক সেবায় তৈরি করা হয়। এসময় হাজারো পর্যটকের পদচারনায় মুখরিত হয়ে ওঠে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। বৃহস্পতিবার থেকে সেন্টমার্টিনের পরিবর্তিত চেহারা দৃশ্যমান হওয়া শুরু করেছে।

কেয়ারি ট্যুরস অ্যান্ড সার্ভিস লিমিটেডের কক্সবাজার অফিস ইনচার্জ মো. হুমায়ুন কবির জানান, প্রথম দিনে পর্যটক নিয়ে যাওয়া কেয়ারি নিরাপদে টেকনাফ ফিরেছে। জাহাজ চলাচলের অনুমতির খবরে ভ্রমণ পিয়াসী মানুষের মাঝে সাড়া পড়ে। একদিনেই কেয়ারি সিন্দবাদের প্রায় সিট বুকিং হয়ে যায়। শুক্রবার বে-ক্রুজ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিন যাত্রা করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, সাগর উত্তাল ও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এতদিন সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ অনুমোদন দেয়া হয়নি। আবহাওয়া অধিদফতরের ভাষ্য মতে এখন সাগর প্রায় শান্ত। তাই শর্তসাপেক্ষে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। শর্ত লঙ্ঘন হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও উল্লে­খ করেন তিনি।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের অভিমত, সেন্টমার্টিনের অধিকাংশ মানুষের জীবিকা পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটক না আসলে দ্বীপের মানুষের আয় কমে যায় এবং কাঠের বোটে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।

টুরস অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টুয়াক) কক্সবাজার এর সভাপতি এম. রেজাউল করিম বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল কোরবানির ঈদে সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে জাহাজ চলাচলের অনুমতি মিলবে। সেভাবে পর্যটকও এসেছিল। কিন্তু শেষমেষ অনুমতি না পাওয়ায় অনেকে ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করে ফিরে যান। এখন জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় পর্যটন সংশ্লিষ্টরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি সরকারও রাজস্ব পাবে।