মেইন ম্যেনু

সেলফি কেন তুলি?

বিশ্ব জুড়ে চলছে সেলফি জ্বর। এই জ্বরে কমবেশি ভোগেন অধিকাংশ মানুষ। বিভিন্ন ভঙ্গিমায়, নানা ঢঙে, বিভিন্ন স্থানে এবং অনেক কিছু সঙ্গে নিয়ে সেলফি তুলে ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টুইটারে দেয়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে সেলফি পাগলদের মধ্যে। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সেলিব্রেটিরাও বাদ যাচ্ছেন না সেলফিতে। কে কতো ঝুঁকির মধ্যে সেলফি তুলে এসব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট করতে পারেন তারও একটি অপ্রকাশ্য প্রতিযোগিতা চলে। কেউ কেউ ঝুঁকিপূর্ণ এসব সেলফি তুলতে গিয়ে ঘটিয়ে বসেন নানা দুর্ঘটনা, মারাও যান। রাস্তাঘাটে, রেস্টুরেন্টে, ক্যাম্পাসে, গাড়িতে, রিকশায়, অনুষ্ঠানে বা দর্শনীয় স্থানে সবার এমন সেলফি তোলা দেখে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক সবাই বুঝি সেলফির একনিষ্ঠ ভক্ত। কিন্তু এখানেও বাস্তবতার বেশ ফারাক। বেশ কিছু সেলফি ভক্তের বক্তব্যে তার প্রমাণ মেলে। আসুন দেখে নেয়া যাক সেলফি নিয়ে কে কী ভাবছেন?

আসলে সেলফি তোলার সময় সবাই বেশ ক্লোজ হয়ে যায়। খুব হাসি হাসি মুখ থাকে সবার। ভাবটা এমন থাকে যেন আমরা সবাই সবার কতো কাছের। কিন্তু ছবি তোলার পর একে অপরকে শেয়ার করতে ভুলে যায়। এমন কি কোনো অনুষ্ঠানে গিয়ে তোলা সেলফির সবাইকে আমরা চিনিও না। ব্যস্ত থাকি ফেসবুকে শেয়ার করতে। আমার মতে, সাময়িক মজা পাওয়াকে বেশি বেশি দেখানোর কৌশল হল সেলফি। তবে বেশির ভাগ সময় ছবি তুলে দেয়ার কেউ না থাকলে সেলফি তুলতে হয়, তুলেও থাকি।

সেলফি তোলাকে আমার কাছে একদমই ছেলেমানুষী মনে হয়। এখানে ছবির মান মোটেও ভালো থাকে না। বিশেষ করে যাদের সেলফিতে নিজের মুখভঙ্গি বিকৃত করার অভ্যাস আছে তাদের দেখলে আরও বেশি বিরক্ত লাগে। যেসব জায়গায় একদমই একা, সুন্দর দৃশ্যের মাঝে নিজের ছবি তুলতে অপরের সাহায্য পাওয়া যায় না, সেখানে সেলফি তোলার ব্যাপারটা ঠিক আছে।

বন্ধুরা মিলে সেলফি তুলতে গেলে একই ফ্রেমে সবাই থাকা যায়। তাছাড়া রেগুলার স্টাইলের চেয়ে সেলফি নতুন একটি ধারণা। ভিন্ন ভিন্ন স্টাইল তৈরিও করা যায়। অন্যকেউ ছবি তুলে দিলে এই স্টাইল করা সম্ভব হয় না।

সেলফি তুললে নিজের চেহারা অসুন্দর আসে। পুরো মানুষটাকে ভালো ভাবে বোঝা যায় না। শুধু মুখ ফোকাস হয়, তাতে নাক, মুখ, হাত সবই মোটামোটা লাগে। তবে এককথায় নিজেকে ভিন্ন ভাবে দেখার জন্য সেলফি অন্যতম একটা মাধ্যম বটে। তাই এতোসব অসুবিধা থাকলেও আমি নিজেও সেলফি তুলি। বন্ধুদের সঙ্গেও সেলফি তুলি।

আসলে আমি যেখানে থাকি সেখানে পরিচিত মানুষ খুব কম। আমার সঙ্গী সারাদিনই কাজে বিজি থাকে। তাই আমার ছবি তুলে দেয়ার কেউ নেই। সেলফি তুলে নিজেরও একটু সময় কাটলো আবার ছবিও তোলা হল।

আমার তো মনে হয় সেলফির ওপর ভ্যাট বসানো উচিৎ। প্রতিটি স্পটে এতো বেশি সেলফি তোলা হয় তা দেখে রীতিমতো বিরক্ত হওয়া ছাড়া উপায় নেই। কোনো রেস্টুরেন্টে বসে খেতে গেলেও মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। খাবার খেতে গিয়ে বন্ধুদের মধ্যে হই হুল্লোড় আর নানা ভঙ্গিতে সেলফি তোলা। এমন আচরণে অপরের বিব্রত করার বিষয়টি তাদের মাথায় থাকে না।

আমার কাছে সেলফি মানেই আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি নাম। কেউ পাশে না থাকলেও স্টাইল করে ছবি তোলা যায়। অন্যের সামনে পোজ দিতে লজ্জা করে কিন্তু একা একা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা বা দর্শণীয় স্থানে গিয়ে নিজের পছন্দ মতো ছবি তোলার একমাত্র উপায় সেলফি। একারণেই সেলফি আমার খুব প্রিয়।

সেলফি না তোলাটাই ফ্যাশন থেকে দূরে থাকা। হাতে যেমন স্মার্ট ফোন না থাকাটা পিছিয়ে থাকা তেমনি সেলফি না তোলাটাও পিছিয়ে থাকা। তাছাড়া, নিজেদের ছবি তোলার জন্য অন্যকে ডিস্টার্ব না করে নিজের ছবি নিজেই তোলা ভালো।



(পরের সংবাদ) »